• রাষ্ট্রের অনুকূলে দুর্নীতির সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে

    | ২৫ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

    রাষ্ট্রের অনুকূলে দুর্নীতির সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে
    apps

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে ফ্ল্যাট, বাড়ি ও মার্কেটসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দে আদালতের অনুমতি নিয়েছে সংস্থাটি।

    শুধু আবজাল হোসেন নন, দুর্নীতির মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে, আদালতের নির্দেশসাপেক্ষে তাদের সবার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে দুদক। সে এখতিয়ার তাদের রয়েছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    গত ১৫ বছরে (২০০৪-১৮) দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৫ হাজার ২৭টি মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে প্রায় ৭৫০টি বা ১৫ শতাংশ মামলা হয়েছে আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।

    দুদক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদসংক্রান্ত চলমান মামলা ও কমিশনের পক্ষে রায় হয়েছে এমন সব মামলায় সম্পৃক্ত সব ধরনের অবৈধ সম্পদ জব্দ, ক্রোক ও অবরুদ্ধ হলে তা অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অনুকূলে আনা হবে। এসব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো প্রকার দুর্নীতি, সম্পদের ক্ষতিসাধন কিংবা অব্যবস্থাপনার সুযোগ না থাকে, এমন একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ,


    অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথসভা করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কাজ করবে দুদক। অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের কার্যক্রম নিয়ে গতকাল দুদকের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অবৈধ সম্পদসংক্রান্ত চলমান ও কমিশনের পক্ষে রায় হয়েছে এমন সব মামলায় সম্পৃক্ত সব ধরনের অবৈধ সম্পদ জব্দ, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করে মামলার তালিকা অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ও কমিশনে উপস্থাপন করতে হবে। এ কার্যক্রমে যারা যুক্ত থাকবেন, তাদের ফরোয়ার্ড ডায়েরি অনুসরণ করতে হবে। এরই মধ্যে যেসব মামলায় আসামিদের শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে অথবা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তাও রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্পদ জব্দ, ক্রোক করতে হবে। অবৈধ সম্পদ ভোগ করার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না। অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে আনার জন্য দুদক ব্যবস্থা নেবে।

    রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত সম্পদের জিম্মাদারদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির একটি পথ বন্ধ করে আরেকটি পথ কখনই খুলতে দেয়া যাবে না। দুদকের যেসব মামলায় আসামিরা মারা গেছেন কিন্তু অবৈধ সম্পদ রয়ে গেছে, এসব সম্পদ ক্রোক, জব্দ, বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। জব্দকৃত ব্যাংক হিসাবের বাইরেও ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। তাই তার সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে অপরাধলব্ধ সম্পত্তিবিষয়ক নির্দেশিকা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এরই মধ্যে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সেল গঠন করা হয়।

    দুদক মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত ওই সেলে রয়েছেন একজন পরিচালক, একজন উপপরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালক, দুজন উপসহকারী পরিচালক, দুজন সহকারী, দুজন কম্পিউটার অপারেটর ও ছয়জন কনস্টেবল।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি মামলার বিচার শেষে আদালত থেকে সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক, অবরুদ্ধ ও রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেয়া হলে দুদকের

    সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা তা জরুরি ভিত্তিতে সেলের পরিচালককে লিখিতভাবে জানাবেন। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া হলে ঢাকায় দুদকের প্রসিকিউশন সেল-১-এর উপপরিচালক ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রায়ের কপিসহ সেলের পরিচালককে লিখিতভাবে জানাবেন। জব্দ ও ক্রোক করা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এ সেল কৃষিজমি ব্যবহার, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেবে। এসবের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে হিসাব-নিকাশের নথি আদালতে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের দখলে আনবে। জরিমানার টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    দুদককে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হলে সেল ওই সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এসব সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া যাবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিসিভার আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে সেল। কোনো ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি পেলে ওই সেল আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রিসিভারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। অপরাধলব্ধ সম্পত্তির অবস্থান দেশের বাইরে হলে সেল প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তত্পরতা চালাবে।

    এর আগে রায়ের পর আদালত থেকে অপরাধীর সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক, অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়নি। এবার দুদক এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবে।

    উল্লেখ্য, অপরাধলব্ধ সম্পত্তির বিষয়ে দুদকে নির্দেশিকায় বলা হয়, দুদক আইন-২০০৪, মানি লন্ডারিং আইন-২০১২ ও ২০১৭ সালের দুদক বিধিমালায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারকালে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার বিধান রয়েছে। এছাড়া ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৮ ও দুদক আইনে দুর্নীতি মামলার বিচার শেষে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও একই সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি