• রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ

    বিবিএনিউজ.নেট | ২৭ জুলাই ২০২০ | ১:৪২ অপরাহ্ণ

    রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ
    apps

    বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে অনেক খরচ ও ঝামেলা পোহাতে হয়। এজন্য অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠান। তবে গত অর্থবছর থেকে বৈধপথে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এতে করে দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণও বেড়েছে। তবে প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ যেন আরও সহজে দেশে পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    সভার কার্যপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বা রেমিট্যান্স যেন সহজে দেশে পাঠাতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈধ চ্যানেলের ঝামেলা এড়াতে অবৈধ চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থিত ব্যাংকগুলোর এক্সচেঞ্জ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, মানি লন্ডারিং বিষয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে রেমিট্যান্স পাঠানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগে যেখানে খুব সহজেই রেমিট্যান্স পাঠানো যেত, এখন সেখানে নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয়। এ কারণে একদিকে অব্যাহতভাবে কমছে প্রবাসী আয়, অন্যদিকে বাড়ছে হুন্ডির ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ একাধিক সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।


    জানা গেছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে হলে আয়ের বৈধ সনদ দিতে হয়। একইভাবে পাঠানো অর্থের সুবিধাভোগীদের পুরো তথ্য দিতে হয়। তাছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচও বেশি। এর ফলে অনেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলকে হয়রানি মনে করে বিকাশসহ হুন্ডিতে টাকা পাঠাতে বেশি আগ্রহী।

    তবে গত অর্থবছরের মতো রেমিট্যান্স বাড়াতে চলতি অর্থবছরও এ খাতে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে গত বছর থেকেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা (বিনিময় হার ৮৫ টাকা হিসেবে)। এ ধারা অব্যাহত থাকলে একক মাস হিসেবে চলতি মাসে রেকর্ড ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে রেমিট্যান্স আহরণ।

    এর আগে চলতি বছরের জুনে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ করে বাংলাদেশ। তারও আগে একক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল গত বছরের মে মাসে।

    এদিকে সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সে হিসেবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা।

    করোনায় বৈশ্বিক অর্থনীতি পরিস্থিতির অবনতি না হলে রেমিট্যান্স আরও বেশি হতো বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:৪২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি