নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ২৮ বার পঠিত
দেশে গত অক্টোবরে ১৫ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। অন্যদিকে, সাত ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও দুটি পণ্যের দাম কমেছে।
ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে মাছের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। মসলা, বিশেষ করে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরার দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির দাম ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্য তেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং চালের দাম গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। ডিমের দাম আবারও বেড়েছে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। চায়ের দাম ০ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মাংসের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, সাত ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এগুলো হলো লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, চানাচুর ও বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা-কলম।
এদিকে, দুটি পণ্যের দাম কমেছে। শাকসবজির দাম ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা ও রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাজারে শীতকালীন শাকসবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে কৃষিপণ্য উৎপাদনকারীরা বলছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় তাঁরা এসব পণ্যের বিক্রয়মূল্য পাচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও রংপুরে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মুলা ৬ থেকে ৮ টাকা এবং প্রতিটি লাউ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকায়। অথচ ঢাকার বাজারে একই পণ্যের দাম অনেক বেশি। রাজধানীতে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
সিএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। অক্টোবরে বেড়েছে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সংগঠনটির হিসাবে, এই দুই মাসে পণ্যমূল্য মোট ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এভাবে লাগামহীনভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধু বেতন-ভাতা বাড়ালেই হবে না। বাড়িভাড়া ও দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ শহর-নগরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সরকার গ্রাম পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের দাম সহনীয় রাখতে কার্যকর বাজার তদারকির ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Posted ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন