Ad
x
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা পরিচালকরা

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের অনিয়ম: তদন্ত শেষ, ব্যবস্থা নেই বিএসইসি-আইডিআরএর

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬   প্রিন্ট   ৫৭ বার পঠিত

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের অনিয়ম: তদন্ত শেষ, ব্যবস্থা নেই বিএসইসি-আইডিআরএর

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করপোরেট গভর্ন্যান্স লঙ্ঘন, বোর্ড পরিচালনায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত শেষ হলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ থাকার পরও তা উপেক্ষা করে গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সাঈদ খোকন অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই সভায় ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সভায় সাঈদ খোকনের হয়ে কলকাঠি নাড়েন তার চাচা কোম্পানিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঈসমাইল নওয়াব।

বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইডিআরএ পরিচালনা পর্ষদ ও বিভিন্ন কমিটির সভায় পরিচালকদের সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। সে কারণে চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ এবং ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও সাঈদ খোকন চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানির কার্যক্রমে প্রভাব রাখছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে না গেলেও বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে।

সাত উদ্যোক্তা পরিচালকের অভিযোগের পর গত বছরের ৯ নভেম্বর বিএসইসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তে চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর সাঈদ খোকনের দায়িত্ব পালন, বোর্ড অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্যোক্তা পরিচালক অপসারণ, পরিবারের সদস্যদের পরিচালক নিয়োগ, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণ, আত্মগোপনে থেকে কোম্পানি পরিচালনা এবং কোম্পানি আইন, বীমা আইন, সিকিউরিটিজ আইন ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

একই বিষয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল বা পরবর্তী পদক্ষেপ প্রকাশ করা হয়নি।

বিএসইসিতে দেওয়া অভিযোগে সাত উদ্যোক্তা পরিচালক দাবি করেন, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তারা অভিযোগ করেন,সাতজন স্পন্সর পরিচালককে অপসারণ করে চেয়ারম্যান তার পরিবারের সদস্য ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এর ফলে পারিবারিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান নিজের সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ ও অপসারণ করেছেন। এ কাজে কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগকারী পরিচালকেরা নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।জানতে চাইলে আইডিআরএর উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় অনেক বিষয়ই এতদিন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। যেহেতু নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে এখন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৮:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com