সোমবার ৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

এনটিসি’র সাবেক জিএম কেরামত আলীর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ, তদন্ত হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হয় না

রবিবার, ০৩ মে ২০২৬   প্রিন্ট   ৭ বার পঠিত

এনটিসি’র সাবেক জিএম কেরামত আলীর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ, তদন্ত হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হয় না

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানিতে সাম্প্রতিক বিশেষ অডিটে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এতসব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে আসার পরও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সাবেক কর্মকর্তারা পুনরায় সক্রিয় হয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করে কোম্পানির এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত বছর অভ্যন্তরীণ অডিট-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. কেরামত আলীর বিরুদ্ধে ২০১৯ ও ২০২০ সালে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেখ কবীর হোসেন এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান।

গত বছর বিশেষ অডিটে ধরা পড়ে ৫-৬ বছর আগের অর্থ আত্মসাতের বড় দুর্নীতি। ২০২০ সালে আটা ক্রয় প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়। কোম্পানির নির্ধারিত ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ না করে, কোনো টেন্ডার আহ্বান ছাড়াই এবং নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতীত পুরো ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এমনকি মালামাল সরবরাহের আগেই সোনারগাঁও ফ্লাওয়ার মিলসকে প্রায় ৬৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। একইভাবে, মোট সাতটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রদান করা হয়েছে যার জন্য কেরামত আলী দায়ী বলে অভ্যন্তরীন সূত্র অভিযোগ করেছে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিল ও ভাউচারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) সংযুক্ত না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যাদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে অনিয়ম আড়াল করা যায়। অডিটে আরও উঠে এসেছে, ২০১৯ ও ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় গুদাম (পাত্রখোলা) থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার রাসায়নিক দ্রব্য আত্মসাতের ঘটনা। এ সময় গুদামের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ডিজিএম সৈয়দ মাহমুদ হাসান। তার তত্ত্বাবধানে দুই বছরে ধাপে ধাপে এসব মালামাল সরানো হলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। একই সময়ে কেরামত আলী হিসাব সম্পন্ন করে এই ঘাটতি গোপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে যা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত দেয়।

কেরামত আলীর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে দুদকে অভিযোগ দায়ের হলে তার তদন্ত চলমান আছে বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাস্তির পরিবর্তে পদোন্নতি পান। কেরামত আলী পরবর্তীতে জিএম (অর্থ) এবং মাহমুদ হাসান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। একইভাবে, অডিটে এসব অনিয়ম উল্লেখ না করায় অডিট ম্যানেজার গোলাম মাওলা বেলালকেও পদোন্নতি দিয়ে কোম্পানি সচিব করা হয়।

এদিকে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে কোম্পানিটি ২০২৪ সালের আগস্টের আগেই শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানির ১২টি চা বাগান প্রায় ৫২ দিন বন্ধ ছিল।

অভ্যন্তরীন সূত্র আরও অভিযোগ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কেরামত আলী ও এমডি সৈয়দ মাহমুদ হাসান কোম্পানি ছেড়ে যাওয়ার সময় ১৪ লক্ষ কেজি নিম্নমানের চা পাতা গুদামে রেখে যান যার উৎপাদন মূল্য ছিল প্রতি কেজিতে ৩০৯ টাকা। পরবর্তীতে বর্তমান বোর্ড ২০২৫ সালে তা ৯২ থেকে ৯৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। এই বিশাল লোকসানের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলে কয়েক দফা শুনানি হয় এবং মন্ত্রণালয় নিম্নমানের চা পাতা বেশি উৎপাদন খরচ দেখিয়ে যারা গুদামজাত করে অবিক্রিত রেখেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিব মাহবুবুর রহমান সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তবে বাস্তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক জিএম কেরামত আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই। ৫-৬ বছর আগের বিষয় এখন কীভাবে আসছে আমার জানা নেই। আমি কিন্তু ক্রয় শাখায় (প্রকিউরমেন্ট)-এর দায়িত্বে ছিলাম না, অর্থ ও হিসাব শাখার জিএম হিসাবে আমি বিল চেক করা ও সব তথ্য সঠিক থাকলে অনুমোদন করার দায়িত্বে ছিলাম। অনেকেই মনে করেন অর্থ ও হিসাব শাখায় হয়ত আমি ক্রয়-সংক্রান্ত কাজেও ছিলাম। আর সে সময় যেহেতু সৈয়দ মাহমুদ হাসান দায়িত্বে ছিলেন, তাহলে তিনি কেন ব্যবস্থা নেননি এবং তিনি ডিজিএম থাকাকালে রাসায়নিক দ্রব্য আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানির বর্তমান এমডি জিয়াউল আহসানের মন্তব্য নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

Facebook Comments Box
×

Posted ১০:৫৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com