অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১০ বার পঠিত
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ৬৪ দেশে রপ্তানি সম্প্রসারণে অগ্রগতির তথ্য দিয়েছে ওয়ালটন
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করেছেন শেয়ারহোল্ডাররা। গতকাল ১৫ অক্টোবর অনলাইনে অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম।
বিশ্ব ও দেশের অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লভ্যাংশের এ প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেয়ারহোল্ডাররা। একই সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে ওয়ালটনের বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা।
সভায় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং পরিচালক এস এম নুরুল আলম রেজভী, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, তাহমিনা আফরোজ, রাইসা সিগমা হিমা, সাবিহা জারিন অ্যারোনা, নিশাত তাসনিম শুচি ও শাদমান সাকিব ডিপ্রো অনলাইনে অংশ নেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. এম সাদিকুল ইসলাম, এফসিএমএ; আখতার মতিন চৌধুরী, এফসিএ, এফসিএস এবং জোহরা বিবি সভায় উপস্থিত ছিলেন। কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল আলম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান আবু নাফিস, নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররাও সভায় অংশ নেন। সভা পরিচালনা করেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে এস এম শামসুল আলম বলেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শক্তিশালী করপোরেট সুশাসনের ভিত্তিতে কোম্পানি ভালো আর্থিক ফলাফল অর্জন করতে পেরেছে।
শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় পরিচালনা পর্ষদ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও আর্থিক কার্যক্রমের উন্নতি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি মূল্য সৃষ্টিতে কাজ করবে ওয়ালটন।
সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম। তিনি কোম্পানির আর্থিক সূচক, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল, উদ্ভাবন এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ওয়ালটনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দেশের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিজস্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
মাহবুবুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে উন্নতমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রথম প্রতিষ্ঠান হবে ওয়ালটন। এসব ব্যাটারি বৈদ্যুতিক যানবাহন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে জেনারেটরের বিকল্প বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানার জ্বালানি সংরক্ষণেও এগুলো কাজে লাগবে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, শিল্প খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
তিনি জানান, কোম্পানির উৎপাদন কারখানায় বাংলাদেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে ওয়ালটন বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে, যা নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
মাহবুবুল আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নে অবদান রাখতে চায় ওয়ালটন।
আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিই, ইউএল, এনওএম, বিএইচএস এবং টিইউভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনের পাশাপাশি ৬৪টি দেশে রপ্তানি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে ওয়ালটন। লিফট ও কেবলের মতো নতুন পণ্য যুক্ত হওয়ায় রপ্তানি পণ্যের পরিসরও বাড়ছে।
তিনি বলেন, সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ ওয়ালটনের পণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াতে সহায়তা করবে।
এজিএমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা। একই সঙ্গে নগদ ও স্টক লভ্যাংশের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।
সভায় পরিচালকদের প্রতিবেদন, পরিচালকদের পুনর্নির্বাচন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ, নিরীক্ষক ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষকের পুনর্নিয়োগ এবং জোহরা বিবিকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট পক্ষ ওয়ালটন প্লাজার সঙ্গে সম্পাদিত লেনদেনও অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা।
লভ্যাংশ অনুমোদনের পাশাপাশি ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ওয়ালটনের পরিকল্পনা সভায় গুরুত্ব পায়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রত্যাশা করছে কোম্পানিটি।
Posted ০৪:২৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন