|

Advertisement
×

কৃষিঋণে সামগ্রিক খেলাপি কমলেও ইসলামী ব্যাংকে বেড়েছে ৯১%, আদায়যোগ্য ঋণ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৯ বার পঠিত

কৃষিঋণে সামগ্রিক খেলাপি কমলেও ইসলামী ব্যাংকে বেড়েছে ৯১%, আদায়যোগ্য ঋণ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ বাড়লেও ঋণ আদায় ও ঋণের মান নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। সামগ্রিকভাবে কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ এক বছরে কমেছে। তবে ব্যাংকভেদে চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ বেড়েছে ৯১ শতাংশের বেশি, আর মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বেড়েছে ১১৬ শতাংশেরও বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও বেড়েছে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে কৃষিঋণে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৪৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ কমেছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

একই সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণও কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৯৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯৩৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমেছে ১ হাজার ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক এই উন্নতির বিপরীতে ইসলামী ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ বেড়েছে ৯১%

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ২০২৫ সালের আগস্টে ছিল ৪৫৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এক বছর পর, ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ৯১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

শুধু শ্রেণিকৃত ঋণ নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ ছিল ৩৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে বেড়েছে ১১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এদিকে, এসব ব্যাংকের আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এক বছরে আদায়যোগ্য ঋণ বেড়েছে ৭৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

তবে ঋণ আদায়েও প্রবৃদ্ধি রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকগুলো ২০২৫ সালের আগস্টে ৮৯৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা কৃষিঋণ আদায় করেছিল। ২০২৬ সালের আগস্টে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এতে আদায় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ঋণ আদায় বাড়লেও আদায়যোগ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণেও অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক বছরে বেড়েছে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

একই সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ২২৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ—দুই ধরনের ঋণই কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ ছিল ১৩ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এক বছর পর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, কমেছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণও এক বছরে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৯২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও ঋণের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। এক বছরে এসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৮০১ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় নেমেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ কমেছে ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের আগস্টে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আগস্টে শ্রেণিকৃত এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণের পরিমাণ শূন্য ছিল।

ঋণ আদায় বেড়েছে ২২%, তবু বাড়ছে আদায়যোগ্য অর্থ

সামগ্রিকভাবে কৃষিঋণ আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৬ হাজার ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কৃষিঋণ আদায় করেছিল। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এক বছরে আদায় বেড়েছে ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এ ছাড়া বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আদায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে আদায় বাড়ার পাশাপাশি আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যাংকগুলোর মোট আদায়যোগ্য কৃষিঋণ ছিল ৩০ হাজার ৭৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭৩২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক বছরে বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এতে বোঝা যায়, ঋণ আদায়ের পরিমাণ বাড়লেও ব্যাংকগুলোর আদায়যোগ্য ঋণের সামগ্রিক চাপ কমেনি।

এক বছরে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪২%

কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ৫৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এক বছরে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ।

একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট কৃষিঋণের স্থিতিও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৫৯ হাজার ৫৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬২০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

তবে ঋণ বিতরণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও সময়মতো আদায় নিশ্চিত করাও ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা, অর্জন ১১.৪৩%

২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগস্ট পর্যন্ত তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

ইসলামী ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১২ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্জন করেছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্জনের হার ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

অর্থাৎ, অর্থবছরের প্রথম মাসে কৃষিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অগ্রগতি এখনো সীমিত।

ব্যাংকগুলোর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করলে ২০২৬ সালের আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে বিতরণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

দশ বছরে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ বেড়েছে কয়েক গুণ

দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত অংশ বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

একই সময়ে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ঋণ আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৬৬ হাজার ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৮০৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদে বাড়লেও শ্রেণিকৃত ঋণের অঙ্কও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার তুলনা করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের মোট ঋণস্থিতির অনুপাতও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

শুধু ঋণ বিতরণ নয়, আদায়েও নজর দেওয়ার পরামর্শ

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ কমাতে শুধু ঋণ বিতরণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। কৃষকের প্রকৃত চাহিদা, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সময়মতো কিস্তি আদায় এবং অনাদায়ী ঋণের কারণ চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষির উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি উপকরণের সরবরাহ এবং কৃষকের আয় ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থায়ন না হলে ঋণ আদায়ে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিঋণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঋণের মান রক্ষা, যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সামগ্রিকভাবে কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ কমার তথ্য ইতিবাচক হলেও ইসলামী ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবনতি সতর্কবার্তা দিচ্ছে। কৃষি অর্থায়নের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ঋণ বিতরণ, তদারকি ও আদায়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১২:৪১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com