|

Advertisement
×

ব্র্যাক ব্যাংকের ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড: ৮.০৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৩ বছরে মিলবে ১০ লাখ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

ব্র্যাক ব্যাংকের ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড: ৮.০৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৩ বছরে মিলবে ১০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। দেশের ব্যাংক খাতে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নিচ্ছে ব্যাংকটি। তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডে বিনিয়োগ করে মেয়াদ শেষে প্রতি ১০ লাখ টাকার অভিহিত মূল্যের বিপরীতে পাওয়া যাবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা মুনাফা। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে বিনিয়োগকারীরা এ বন্ড কেনার সুযোগ পাবেন।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বন্ড ইস্যুর ঘোষণা দেন ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান। এ সময় ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, হেড অব স্ট্রাকচারাল ফাইন্যান্স তানভীর কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ব্যাংকটির চিফ কমিউনিকেশন অফিসার ইকরাম কবীর।

৮ লাখ টাকায় কিনে মেয়াদ শেষে ১০ লাখ টাকা

ব্র্যাক ব্যাংকের এ গ্রিন বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। তবে এটি জিরো-কুপন বন্ড হওয়ায় বিনিয়োগকারীকে পুরো ১০ লাখ টাকা শুরুতেই পরিশোধ করতে হবে না। বার্ষিক সাড়ে ৭ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেটে একটি বন্ড কিনতে ব্যয় হবে ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬১ টাকা। তিন বছর মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পাবেন ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, মেয়াদ পূর্ণ হলে মুনাফা হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা।

বন্ডটি আনসিকিউরড বা জামানতহীন, আনকনভার্টেবল বা শেয়ারে রূপান্তর-অযোগ্য এবং সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য। এতে নির্দিষ্ট সময় পরপর সুদ বা কুপন দেওয়া হবে না; বরং ক্রয়মূল্য ও মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য থেকেই বিনিয়োগকারীর মুনাফা আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে বন্ডের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে মো. শাহীন ইকবাল জানান, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারী এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

যেভাবে আবেদন করা যাবে

বিনিয়োগকারীরা প্রতি সপ্তাহের বুধবার ব্র্যাক ব্যাংকের যেকোনো শাখায় এ বন্ড কেনার আবেদন করতে পারবেন। বুধবার সরকারি বা ব্যাংক ছুটি থাকলে তার আগের কর্মদিবসে আবেদন জমা নেওয়া হবে। আবেদনের জন্য বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখাগুলোতে বিও হিসাব খোলার ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে। সংবাদ সম্মেলনে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য অভিহিত মূল্য কমানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে অল্প অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

করসুবিধা কতটা?

ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিরো-কুপন বন্ড হওয়ায় আয়কর আইনের আওতায় অর্জিত মুনাফার ওপর অগ্রিম আয়কর বা অন্যান্য কর প্রযোজ্য হবে না বলে তারা উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীরা কর রেয়াতের সুবিধাও পেতে পারেন।

জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও বন্ড বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে আগাম বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ও সম্ভাব্য মুনাফা বাজারদরের ওপর নির্ভর করতে পারে।

সাড়ে ৭ শতাংশে অর্থ সংগ্রহ, বিনিয়োগ ৯ শতাংশে

বন্ডের অর্থ কী হারে বিনিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে মো. শাহীন ইকবাল বলেন, “আমরা সাড়ে ৭ শতাংশ হারে যে টাকাটা নিচ্ছি, তা ৯ শতাংশ হারে বিনিয়োগ করব।”

তিনি বলেন, বন্ড ইস্যু ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়া সহজ নয়। তবে ব্যাংক চেষ্টা করেছে, যাতে নিজেদের মার্জিন না রেখেই এ ঋণ দেওয়া যায়।

ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানান, গ্রিন বন্ড থেকে সংগ্রহ করা অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর মতো উদ্যোগে অর্থায়নে কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক কারখানায় মোট জ্বালানি ব্যবহারের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। এতে জ্বালানি ব্যয় কমানো সম্ভব হয়। এ ধরনের সুবিধা উদ্যোক্তাদের গ্রিন বন্ডের অর্থায়নে ঋণ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) তুলনায় গ্রিন বন্ডে মুনাফা কম হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রেফাত উল্লাহ খান করসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উচ্চ সম্পদশালী অনেক ব্যক্তি ৩০ শতাংশ করের আওতায় থাকেন। এফডিআরের মুনাফা থেকে শুরুতে ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে নেওয়া হলেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় প্রযোজ্য করহার অনুযায়ী অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিন বন্ডের বড় সুবিধা হলো এতে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর অতিরিক্ত করের দায় নেই।

তবে বিনিয়োগের আগে বন্ডের করসুবিধা, প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা, আগাম বিক্রির শর্ত এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্র্যাক ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন একটি বিনিয়োগপণ্য চালুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মুনাফার পাশাপাশি বন্ডের শর্ত, তারল্য ও প্রযোজ্য করব্যবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১২:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com