Ad
x
এফডিআর, বিনিয়োগ, প্রিমিয়াম আয় ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের অডিট রিপোর্টে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৭৩ বার পঠিত

ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের অডিট রিপোর্টে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’

ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সোমবার (২০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এক সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, এফডিআর, প্রিমিয়াম আয়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এবং বিএসইসির করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের আলোকে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দাবি করে শেয়ারহোল্ডাররা।

অডিট রিপোর্টে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’: ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান কাজী জহির খান এন্ড চাটার্ড একাউন্টান্টস কোম্পানির আর্থিক বিবরণীর ওপর ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’ প্রদান করেছে।

নিরীক্ষকরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কোম্পানি ২০২৫ সালে আইন নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে গ্র্যাচুইটি ফান্ডে লাম্পসাম ভিত্তিতে প্রভিশন সংক্রান্ত বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। এছাড়া ‘ইমফাসিস অব ম্যাটার’ অংশে নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা কয়েকটি এফডিআর আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শেয়ারহোল্ডারের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় কোম্পানির এফডিআর। একজন শেয়ারহোল্ডার বলেন, ২০২২ সালে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা থাকা এফডিআর ২০২৫ সালে কমে ১৪.৫৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মাত্র তিন বছরে ৪৪.৪২ কোটি টাকা বা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণ কী, এই বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং সেই অর্থ থেকে কোম্পানি কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোম্পানির মোট সম্পদ পাঁচ বছরে মাত্র ১৫ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সময়ে শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি এবং নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ধীর। কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কেন স্থবির হয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চান তিনি। সভায় গ্রস প্রিমিয়াম আয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শেয়ারহোল্ডারের দাবি, ২০২২ সালে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা থেকে ২০২৫ সালে গ্রস প্রিমিয়াম নেমে এসেছে প্রায় ৪০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন বছরে প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। এই পতনের কারণ কী এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে কোম্পানির পরিকল্পনা কী—তা জানতে চান তিনি।

রি-ইন্স্যুরেন্স নীতিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোম্পানি গ্রস প্রিমিয়ামের প্রায় ৪৬ শতাংশ রি-ইন্স্যুরেন্সে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, কোম্পানি কি অতিরিক্ত ক্লেইম ঝুঁকি নিজেই বহন করছে, নাকি বর্তমান রি-ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থাই যথাযথ। শেয়ারহোল্ডার আরও প্রশ্ন তোলেন মোট বিনিয়োগ কমে যাওয়া নিয়ে। তার ভাষ্য, পাঁচ বছরে কোম্পানির বিনিয়োগ প্রায় ৮ কোটি টাকা কমেছে। অথচ এ সময়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ার কথা ছিল।

আউটস্ট্যান্ডিং ক্লেইম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বেড়ে ৭.৪৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার ও মেরিন বীমার দাবির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। এতে কোম্পানির সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সানরি ক্রেডিটর এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় এর কারণও জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে শেয়ার অ্যাপ্লিকেশন মানি কোন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং এফডিআরের বিপরীতে রাখা প্রভিশনের ভিত্তি কী সেসব বিষয়েও ব্যাখ্যা দাবি করেন। সভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোম্পানির প্রায় ৮.১৭ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে, যা বর্তমান মোট এফডিআরের ৫৬ শতাংশেরও বেশি। এসব অর্থ আদায়যোগ্য কি না, কোন কোন প্রতিষ্ঠান সুদ পরিশোধ করেছে এবং কোনগুলো করেনি তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, অনুমোদিত সীমার চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করেছে কোম্পানি। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং গ্র্যাচুইটি ফান্ডে লামসাম ভিত্তিতে প্রভিশন রাখার কারণ জানতে চান তিনি।

সবশেষে, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার বিএসইসির করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড অনুযায়ী স্বাধীন পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি এজিএমে উত্থাপিত প্রতিটি প্রশ্নের লিখিত উত্তর কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তা সরবরাহেরও দাবি জানান।

এজিএমে উত্থাপিত এসব প্রশ্ন কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন শেয়ারহোল্ডারদের নজর থাকবে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এসব প্রশ্নের কতটা স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের কোন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেননি মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী। অডিটে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’এর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বার্ষিক প্রতিবেদনে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে ঢাকা ইন্সুরেন্সের এমডি এবং কোম্পানি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Facebook Comments Box

Posted ০৯:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com