নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে প্রেস ব্রিফিং করা এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন বিষয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসিফ মাহমুদের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা রিটটির নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬। এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন বিষয়ে এ ধরনের ব্রিফিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্য সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির এক উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আবেদনে দাবি করা হয়, দুদক আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধান শেষে নির্ধারণের বিষয়। অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার কমিশনের নেই।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব ওই বক্তব্যকে ‘মুখ ফসকে বলা’ বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। তবে বক্তব্যটির আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের এক সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগ তোলা হয় বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশে কার্যকর হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে, অর্থাৎ আসিফ মাহমুদের ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর। এ কারণে ওই পদোন্নতিতে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব ব্রিফিং করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করে রিটে দাবি করা হয়, তা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি।
Posted ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com