অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ সদর দফতর থেকে শুরু করে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত জানাতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। উপজেলা, জেলা, বিভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কার কী দায়িত্ব থাকবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্গাপূজার যথেষ্ট আগে এ ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এবারও পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি জানান, এবার পূজামণ্ডপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বিশেষ অনুদান আগের চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের তুলনায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে বলে সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন। পূজার জন্য সরকারি বিশেষ বরাদ্দ চার কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকায় উন্নীত করার তথ্যও মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির একটি অ্যাপ পূজার সময়ও ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অ্যাপটির মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যাবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দফতরে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম থাকবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।’
প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও টেলিফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
পূজামণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। কোনও কারণে জেনারেটরও কাজ না করলে চার্জার লাইটসহ বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সবার সহযোগিতা ও নজরদারিতে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।’
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ছিল একদিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা আরেক দিন বাড়ানো হয়েছিল। এবার আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি দাঁড়িয়েছে তিন দিন। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় কার্যত টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকবে।’
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি যোগ হয়েছে। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতারা এ সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’
কোনও পূজামণ্ডপকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনও ভালনারেবল বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের খবর পাইনি। তবে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে, সবাই সতর্ক আছে। কোনও মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ বলে তথ্য পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেশের কয়েকটি এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও ঘটনার তথ্য তখন পর্যন্ত তার কাছে ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও ঘটনার তথ্য সঠিক হলে পুলিশ তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
‘রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে’
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলমান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা নির্মোহভাবে কাজ করছি। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই ট্রিট করছি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ যাচ্ছে, গ্রেফতার করছে এবং মামলা নেওয়া হচ্ছে।’
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাড্ডার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও সেটিকে বিবেচনায় নেওয়া হবে না। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে যেসব কর্মসূচিবৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে যেসব কর্মসূচি
মিরপুরের ঘটনায় ‘সমন্বয়ের অভাব’ দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে তার মনে হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ সম্পন্ন করেননি। এখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।’
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এনে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’
Posted ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com