বুধবার ২৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

নয় অর্থবছরে এসেছে চীনা ঋণের ৯১ শতাংশ

শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২১   প্রিন্ট   ৫২৪ বার পঠিত

নয় অর্থবছরে এসেছে চীনা ঋণের ৯১ শতাংশ

১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে ঋণ বা অনুদান হিসেবে বাংলাদেশে অর্থায়ন শুরু করে চীন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পরিসংখ্যান বলছে, ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাকে ঋণ, অনুদান বা অর্থসহায়তা হিসেবে প্রায় ৩২১ কোটি ডলার দিয়েছে বেইজিং। এর মধ্যে ৯১ শতাংশের বেশি ছাড় হয়েছে গত নয় অর্থবছরে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ার কারণেই গত এক দশকে গতি পেয়েছে বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন কার্যক্রম।

ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে শুরুর পর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৩২০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ডলারের ঋণ, অনুদান বা অর্থসহায়তা দিয়েছে চীন। এর মধ্যে প্রায় ২৯৩ কোটি ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে গত নয় অর্থবছরে, যা মোট ঋণের প্রায় ৯১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

৩ হাজার ৪০০ মিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ তৈরি হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। চীনা অর্থায়নে নির্মীয়মাণ প্রকল্পটির উদ্বোধন হয় ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর। এটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা অর্থায়নে গৃহীত বড় প্রকল্পগুলোর অন্যতম। এছাড়াও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন ও ‘মুরিং’ স্থাপন, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তৃতীয় ধাপের উন্নয়ন এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের মতো বৃহদায়তন আরো কয়েকটি প্রকল্প চীনা অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

এ বিষয়ে ইআরডির সাবেক সচিব মনোয়ার আহমদ বলেন, মূলত রাজনৈতিক যোগাযোগ, সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারণেই গত এক দশকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। গত কয়েক বছরে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতা আরো অনেক বেড়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি চীনের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে ইআরডির শাখাভিত্তিক দক্ষতাও বেশ গতিশীল হয়েছে। টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়াগুলো দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত সম্পন্ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও ঋণদাতা কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করায় ইআরডি সব সময়ই দক্ষতা দেখিয়েছে। প্রকল্পগুলো এখন যৌথভাবে ভিজিট করানো হচ্ছে। এ ধারা চলমান থাকলে সামনের দিনগুলোয় এ ঋণপ্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাবে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সে সময় কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। পরের অর্থবছরেও কোনো প্রতিশ্রুতি কিংবা অর্থ ছাড়করণ ছিল না।

ফলে এ দুই অর্থবছরে চীন কোনো ঋণ ছাড় করেনি। এরপর ২০১১-১২ অর্থবছরে ১১ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ডলার ছাড় করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় ফিরে আসে চীন। ওই সময়ের পর থেকে গত তিন অর্থবছরেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড়করণ হয়েছে। সমন্বয়কৃতসহ গত তিন অর্থবছরে মোট ছাড় করা হয়েছে প্রায় ১৯৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯৭ হাজার ডলার, ২০১৮-১৯-এ ৫১ কোটি ৫০ লাখ ৮৬ হাজার ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪০ কোটি ৮৮ লাখ ৭১ হাজার ডলার ছাড়করণ হয়েছে। এ সময় সমন্বয়কৃত অর্থের পরিমাণ ৭ কোটি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত তিন অর্থবছরেই মোট ঋণের প্রায় ৬১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ছাড় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, চীনের এ অর্থায়ন পরিস্থিতি দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। তবে অর্থায়ন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে শুধু চীন গুরুত্ব পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে শত্রুতা নয়—বঙ্গবন্ধুর এমন নীতি মেনেই বর্তমান সরকার বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে। তবে চীনের ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কখনই দেশের স্বার্থকে উপেক্ষিত হতে দেইনি। সামনের দিনগুলোয় প্রকল্পের গুণগত মান ধরে রাখা ও আয়বর্ধক কাজে অর্থ বিনিয়োগ ও জনগণের অধিক মুনাফা দিতে পারে এমন প্রকল্প গ্রহণ করলে ঋণ গ্রহণ আরো টেকসই হবে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় ২৭টি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়। এসব প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। তিস্তার নদী খনন, নদীর দুই পাড়ে তীর রক্ষাকাজ, চর খনন, স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ এবং বাড়িঘর রক্ষায় সামনের দিনগুলোয় আরো বেশি অর্থায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এছাড়া গত অর্থবছরেও (২০১৯-২০) প্রায় ৭১ কোটি ৯০ লাখ ৬৬ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক বলেন, চীন নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে (বিআরআই) কাজে লাগিয়ে বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশে বিনিয়োগ করছে। প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব সুফল আদায় করতে চাইবে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা এবং বাংলাদেশ যাতে ঋণের ফাঁদে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখেই সব সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ বাংলাদেশে চীনের প্রতিশ্রুতি বেশি থাকলেও বিনিয়োগ বেশি ভিয়েতনামে। আবার চীনের এ বিনিয়োগ দেশে আনতে না পারলে সেগুলো মিয়ানমারে চলে যাবে। তখন বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা পিছিয়ে যাবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২১

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com