অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ৮ বার পঠিত
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক দেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. ওবায়দুল হক। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি ব্যাংকের কার্যক্রমে গতি আনা, সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকও ‘বাংলা কিউআর’ সেবার যাত্রা শুরু করেছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে ‘বাংলা কিউআর’ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, এর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি’র সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সজল সরকার।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সম্প্রতি ‘বাংলা কিউআর’ সেবার যাত্রা শুরু করেছে। এ উদ্যোগের পেছনের ভাবনা কী?
মো. ওবায়দুল হক: বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে দেশে ক্যাশলেস ও স্মার্ট আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ চলছে, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক তার সক্রিয় অংশীদার হতে চায়। ‘বাংলা কিউআর’ চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের জন্য একটি সহজ, নিরাপদ, দ্রুত এবং আন্তঃব্যাংকভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বর্তমানে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনের দিকে পুরো বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও চাই, দেশের প্রতিটি মানুষ—শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত—খুব সহজে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা ভোগ করুক। ‘বাংলা কিউআর’ সেই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই সেবার প্রধান সুবিধাগুলো কী?
মো. ওবায়দুল হক: সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সরলতা। একজন গ্রাহকের কাছে যদি একটি স্মার্টফোন এবং ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকে, তাহলে তিনি কয়েক সেকেন্ডেই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হবে না, খুচরা টাকার ঝামেলাও থাকবে না। ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি অত্যন্ত কার্যকর। বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট মুদি দোকান, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট কিংবা স্থানীয় উদ্যোক্তা—সবাই সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এতে লেনদেনের গতি বাড়বে, হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে এবং স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?
মো. ওবায়দুল হক: আমি মনে করি, এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। আগে অনেক ব্যবসায়ী পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন স্থাপনের খরচ বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারতেন না। এখন একটি কিউআর কোড থাকলেই তারা সহজে লেনদেন করতে পারবেন। এতে তাদের ব্যবসা আরও আধুনিক হবে এবং ধীরে ধীরে তারা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবেন। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বাংলাদেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে ‘বাংলা কিউআর’-এর ভূমিকা কীভাবে দেখছেন?
মো. ওবায়দুল হক: ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি জাতীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক যে সমন্বিত পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করেছে, ‘বাংলা কিউআর’ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ব্যবস্থা যত বেশি বিস্তৃত হবে, তত বেশি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হবেন। এতে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক বছরে ‘বাংলা কিউআর’ দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরের কৌশলে এই সেবার অবস্থান কোথায়?
মো. ওবায়দুল হক: আমাদের ব্যাংক ডিজিটাল উদ্ভাবনকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘বাংলা কিউআর’ সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা শুধু একটি সেবা চালু করেই থেমে থাকতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা আরও সম্প্রসারণ করা, যাতে গ্রাহকরা শাখায় না গিয়েও অধিকাংশ সেবা গ্রহণ করতে পারেন। নিরাপদ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: ডিজিটাল লেনদেনে নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের উদ্বেগ থাকে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মো. ওবায়দুল হক: গ্রাহকের আস্থা ছাড়া কোনো ডিজিটাল সেবা সফল হতে পারে না। তাই নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থায় নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা গ্রাহকদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সবাই নিরাপদভাবে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করুন এবং প্রতারণা এড়িয়ে চলুন।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: ব্যাংকের শাখা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে?
মো. ওবায়দুল হক: আমরা ইতোমধ্যে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার, গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণাও চালানো হবে। আমাদের বিশ্বাস, দক্ষ জনবল এবং সচেতন গ্রাহক—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সফল হবে।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: আগামী দিনের পরিকল্পনা কী?
মো. ওবায়দুল হক: আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি শাখা, উপশাখা এবং যত বেশি সম্ভব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’ পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা, গ্রামীণ বাজার এবং নতুন উদ্যোক্তাদের এই সেবার আওতায় আনার ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আরও নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আমরা চাই, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে একটি নির্ভরযোগ্য ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আপনার বার্তা কী?
মো. ওবায়দুল হক: প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শুধু সময় ও খরচ সাশ্রয় করে না, বরং একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। ‘বাংলা কিউআর’ শুধু একটি নতুন সেবা নয়; এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের আস্থা, নিরাপত্তা এবং মানসম্মত সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে। সকলে মিলে কাজ করলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্মার্ট অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বাংলা কিউআর একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: শত ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মো. ওবায়দুল হক: আপনাকে ও আপনাদের পাঠকদের ধন্যবাদ।
Posted ০৮:০০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com