নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পের আওতায় দেওয়া এ ঋণের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এ অর্থায়নের জন্য শনিবার (৩১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে চুক্তিতে সই করেন।
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি পরিচালনা করবে।
প্রকল্পের আওতায় ব্যাংকিং খাতের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নয়ন ও আর্থিক খাতের সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইসিটি অবকাঠামো কেনাকাটায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্তের মাধ্যমে আর্থিক খাতের সুরক্ষাব্যবস্থা উন্নত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। আমানত বিমা ব্যবস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের সময় কমানো এবং ব্যাংক পুনর্গঠন ও সংকটাপন্ন ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে আমানত বিমা তহবিলের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থিক খাতের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
ঋণের শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। অনুত্তোলিত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্থাটির অর্থায়ন রয়েছে। নতুন এ ঋণ ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Posted ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন