|

Advertisement
×

টিসিবির নতুন পণ্য তালিকায় হলুদ, মরিচ ও চা; লক্ষ্য এক কোটি গ্রাহক

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৭ বার পঠিত

টিসিবির নতুন পণ্য তালিকায় হলুদ, মরিচ ও চা; লক্ষ্য এক কোটি গ্রাহক

ভর্তুকির নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা বিক্রির পরিকল্পনা এবং আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি নিজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।

তিনি বলেন, টিসিবি ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চা বিক্রির অনুমোদনও পাওয়া গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরেই চা বিক্রি শুরু হবে।

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, আটা বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হবে।

সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় টিসিবি। দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য

নতুন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখছে টিসিবি। বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর।

তিনি জানান, মাত্র চার মাস আগে নতুন বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে আরও বেশি মানুষের কাছে এসব পণ্য পৌঁছে দিতে চায় সংস্থাটি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

বাজারদরের চেয়ে কম দামে মিলবে নতুন পণ্য

টিসিবির নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে এসব পণ্য সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে সংস্থাটি কিছু মুনাফাও করছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বর্তমানে ভর্তুকির আওতায় থাকা পণ্যগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভোক্তাদের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, একসঙ্গে সব পণ্য যুক্ত না করে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে ভোক্তারা টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় পরিবারের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।

টিসিবি চেয়ারম্যানের মতে, সংস্থার পণ্য থেকে একটি পরিবার বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে। এ সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোও জরুরি।

স্মার্ট কার্ডের বাইরেও পণ্য বিক্রির উদ্যোগ

স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি।

এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিতরণের জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

নতুন পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নিজস্ব নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে সংস্থাটি।

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানোসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়; একই সঙ্গে আয়ও বাড়াতে হবে। ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির।

বাজার পরিস্থিতি বুঝে পেঁয়াজ-আলু সংগ্রহ

নতুন পণ্য বাজারে আনার পাশাপাশি নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে টিসিবি। সংস্থাটি চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবান কিনছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে না সংস্থাটি। বাজারের চাহিদা, সরবরাহ ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এসব পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সংস্থাটি পেঁয়াজ কিনেছিল। তবে বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট না থাকায় নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও জানান, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সারা বছর এসব পণ্য কেনার নীতি অনুসরণ করবে না টিসিবি।

নতুন মসলা, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার মাধ্যমে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী কেনাকাটার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব আয়ের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায় সংস্থাটি। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা সফল হলে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে টিসিবি।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৩:২৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com