নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৮ বার পঠিত
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব এবং বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়। গত ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এ আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ এফটিএর বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তির নিয়মাবলি, শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা (এসপিএস), বাণিজ্যে কারিগরি বাধা (টিবিটি) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।
আলোচনায় এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের অবস্থান, সম্ভাবনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশটি থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রাশিদী সাঈদ ও তার প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভারসাম্য বজায় রেখে একটি কার্যকর ও লাভজনক চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
পরবর্তী দফার আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং উভয় দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসিয়ানভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা খাতের বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো, শিল্পে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এসব সম্ভাবনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে একটি টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি প্রণয়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ০৮:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন