রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রিন্ট ৪২৫ বার পঠিত
এফডব্লিউসিএমএস-কে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ, বাতিল, বিতর্কিত, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিস্টেম উল্লেখ করে এ পদ্ধতি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ‘বায়রা সিন্ডিকেট নির্মূল ঐক্যজোট’ নামের একটি সংগঠন।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে দুই সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে এ দাবি জানান তারা।
এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘মোট এক হাজার ৮০০ লাইসেন্সধারী রিক্রটিং এজেন্সির মধ্যে প্রায় এক হাজার ২০০ রিনিউ করা বৈধ এজেন্সিকে বঞ্চিত করে শুধু ২৫টি লাইসেন্স নিয়ে নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের নীল নকশার অশুভ প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৯৯ ভাগ রিক্রটিং এজেন্সি বঞ্চিত হবে এবং বাজার শিগগির আগের মতো অস্থিতিশীল হবে। যা সরকারের প্রতিশ্রুতি ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ বিপরীত।’
তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত এফডব্লিউসিএমএস সিস্টেম দুই সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকের এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। এফডব্লিউসিএমএস একটি মেয়াদোত্তীর্ণ, বাতিল, বিতর্কিত, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিস্টেম, যার হোতা গতবারের সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড এবং মাহাথির সরকার কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত এসপিপিএ ও বেষ্টিনেটের মালিক দাতো শ্রী আমিন।’
‘এ এফডব্লিউসিএমএস-কে ব্যবহার করে দাতো শ্রী আমিন বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, যা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। শূন্য খরচের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাতো শ্রী আমিনের বেষ্টিনেট কোম্পানির এফডব্লিউসিএমএস আর এসপিপিএ’র ফাঁদে পড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খুইয়ে বিদেশ পাড়ি দিতে হয়েছিল অসহায় শ্রমিকদের। সুতরাং ওই একই ব্যক্তির একই সিস্টেমকে কোনোভাইবেই আর বিশ্বাস করা যায় না।’
স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ মন্ত্রণালয়ের শুধুই আশ্বাস, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল স্বল্প খরচে কর্মী প্রেরণ। কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন করে অভিবাসন ব্যয় কত বা কীভাবে স্বল্প খরচ হবে তা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কর্মীর অভিবসান খরচ কীভাবে নেয়া হবে, কী মডিউলে নেয়া হবে সেক্ষেত্রেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসন ব্যয় কমানো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনের জন্য অভিবসান বিশ্লেষকদের সময় উপযোগী প্রস্তাবিত রিক্রটিং এজেন্সি, ব্যাংক এবং কর্মীদের মধ্যকার আর্থিক লেনদেনের তৃপক্ষীয় চুক্তি ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ণয় করা হয়নি। মন্ত্রণালয় এতদিন সময় পাওয়ার পরও অভিবাসান ব্যয় ও পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে কেন কোনো কার্যকর নির্দেশনা প্রস্তাব করল না?’
জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকের এজেন্ডায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাখা হয়নি এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আনুমানিক কতজন কর্মী পাঠাবে? অভিবাসন ব্যয় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে? কোন কোন সেক্টর পাঠাবে, কত সময়ের মধ্যে পাঠাবে? ন্যূনতম বেতন ও সুবিধাদি কী হবে? এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় বৈঠকের এজেন্ডায় আসেনি। অথচ এটাই অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত।’
Posted ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন