নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৬ বার পঠিত
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে– যদি চার্জশিট হয়, তবে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে। আর দলীয় ব্যবস্থা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যা আইনের বাইরের বিষয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য মিষ্টি কি আসলে পদত্যাগ করেছেন? এরপরের প্রক্রিয়াটা কী হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এটা মাননীয় স্পিকার বলতে পারবেন, এটা আমার এখতিয়ারে নেই। এটা মাননীয় স্পিকারের সংরক্ষিত বিষয়। আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে– যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে। আর দলীয় ব্যবস্থা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, যা আইনের বাইরের বিষয়। আর আইনি ব্যবস্থা হচ্ছে– যদি চার্জশিট হয়, তবে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আসতে হবে। তার আগ পর্যন্ত একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু বলা সঠিক হবে না।
আজকে মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান চলছে এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। একদিকে আপনি বললেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ফুটপাতে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে; এই অস্থিরতার সঙ্গে আসলে কোনো মহল জড়িত বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, হকার মুক্ত করাটা নাগরিকদের দাবি। আমরা হকারদেরকে বেকার করতে চাই না। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা বিকল্প জায়গা বের করার জন্য অলরেডি আমাদের কয়েকটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলিডে মার্কেট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু যত্রতত্র বসে যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা দুর্ঘটনার কারণ এবং এতে জনগণকে আমরা স্বস্তি দিতে পারছি না। হকার এমনভাবে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে থাকে (যেমন- মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে), সেখানে সাধারণ নাগরিকদের কি অধিকার নেই।
তিনি বলেন, শুধু হকারদেরকে প্রোভাইড করার জন্য, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করি; কিন্তু সড়ক বন্ধ করে তো নয়। এটা সিটি করপোরেশনের রেগুলার একটা কাজ, তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন এবং আমরা পুলিশের সহায়তা দিয়ে থাকি। তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করে, হকার মুক্ত করে। তবে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে কেউ বেকার না হয়, সেজন্য একটি ডিসিপ্লিনে আসতে হবে। হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আজকেই করতে পারব এমন নয়, তবে আমরা কয়েকটি জায়গায় চেষ্টা করেছি। নাগরিকদের যাতায়াতের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, স্বচ্ছন্দতা রাখতে হবে, সড়কের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক সিস্টেম বজায় রাখতে হবে। এগুলো সবগুলোই একসঙ্গে চিন্তা করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান কাউকে বেকার করার জন্য নয়, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করার জন্যই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টি করার কোনো সংযোগ নেই।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মিষ্টি কি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কিনা, আমি জানি না; এটা মাননীয় স্পিকার বলতে পারবেন। দলীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি।
সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে এখনো আমরা পরিবর্তন আনিনি, সংশোধনের আমরা চেষ্টা করছি। এভাবে কোনো অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে এবং অপেক্ষা না করে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, সঠিক তথ্য না জেনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করাটা অবশ্যই একটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ এমন কোনো অপতথ্য প্রচার হলে যেখানে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা আছে– সেরকম তথ্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা সঠিক নয়। যেহেতু এখনো আইনটা সংশোধন হয়নি, আমরা এটাকে এখনই আমলে নিতে পারব।
মন্ত্রী বলেন, আমরা অপরাধকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করছি, আলাদা করে মেসেজ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। যেখানে যে সমস্ত অপরাধ সংঘটিত হবে, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেখানে অ্যাড্রেস করছে। অভিযোগ গ্রহণ করছে, মামলা দায়ের হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছে। আপনারা এমন একটিও ঘটনা উল্লেখ করতে পারবেন না বিগত ৬–৭ মাসে, যেখানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে আর পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার দায়িত্ব পালন করেনি। হয়তো ১২ ঘণ্টায় পারেনি, ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টায় পেরেছে। ৭ দিনের ভেতরেও চার্জশিট হয়েছে এমন নজির আছে। ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সমাপ্ত হয়েছে এমন নজির আপনাদের চোখের সামনে আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে কোনো মেসেজ দেওয়ার বিষয় নেই। আমরা যেকোনো রকমের অপরাধ সংঘটিত যাতে না হতে পারে, সেরকম সতর্কতামূলক প্রবেশনারি মেজারস নিচ্ছি এবং অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিচ্ছি। কোথাও যদি আমাদের কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, আপনারা সেটা তুলে ধরবেন, আমরা সেগুলো অ্যাড্রেস করব।
Posted ০৪:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com