বিবিএনিউজ.নেট
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রিন্ট ৪৭০ বার পঠিত
চলতি বছরের জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকাই ছিল খেলাপি ঋণ। এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশই জনতা ব্যাংকের। রোববার জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার করা এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ৫ হাজার ৩৩৮ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার ৯০ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ৭ হাজার ১৫৬ কোটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৫৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী তার লিখিত উত্তরে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহার করছে। অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার আইনটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকগুলোর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের আলোকে ঋণ আদায়ে পিছিয়ে পড়া ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সময়ে সময়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১৬ মে বিআরপিডি সার্কুলার নং ০৫ ইস্যু করা হয়েছে। সেই সার্কুলারে সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল এবং এককালীন এক্সিটের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে (২০১৫-২০১৯) সোনালী ব্যাংক ৫ হাজার ৩০৫ কোটি ২৯ লাখ, জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৬৩ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক ২ হাজার ৯৫৫ কোটি ৩৪ লাখ, রূপালী ব্যাংক ১ হাজার ৮৫ কোটি ৩০ লাখ, বেসিক ব্যাংক ৮৮০ কোটি ৮৬ লাখ ও বিডিবিএল ১ হাজার ৭১ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করেছে।
এদিকে গত ১১ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুক‚লে দেয়া ঋণের বিপরীতে ১৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করেছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করেছে।
গত ১১ বছরে সোনালী ব্যাংকের মওকুফ করা সুদের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ৩ হাজার ৭৪৩ কোটি ৮৮ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ হাজার ২৯১ কোটি ৭০ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৩২৭ কোটি ১৪ লাখ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৩০৭ কোটি ৭৮ লাখ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭৬ কোটি ২৭ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ১০১ কোটি ৯৮ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মওকুফ করা সুদের পরিমাণ ৩২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি হওয়া বিশ্বব্যাপী একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বে পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক দরপতনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের লেনদেনও এর ব্যতিক্রম নয়। ওই সময়কালে পুঁজিবাজারের লেনদেনও সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। করোনা পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজার খোলার পর থেকে সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের ফলে বাজারে বর্তমান শেয়ার মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ সময় পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা তথা উন্নয়নের স্বার্থে এবং অস্বাভাবিক দরপতন রোধে স¤প্রতি নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এসবের পদক্ষেপের মধ্যে শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস সম্পর্কিত নির্দেশনা, পুঁজিবাজার উন্নয়নে গত জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন ও পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্য।
বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ১৬ হাজার ১টি শুল্ক মামলার বিপরীতে অনাদায়ী রাজস্বের পরিমাণ ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
বিএনপির হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৫৫ দশমিক ৭৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রদানে ভারত ও বাংলাদেশ ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত ৯০৪ দশমিক ৭৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে এ অর্থনৈতিক গতি মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের মেয়াদেই গতি লাভ করেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে তিনটি এলওসি চুক্তির আওতায় ৭ দশমিক ৫৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব ঋণের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যক্তি খাতের দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।
জামালপুর-৫ আসনের মোজাফ্ফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রফতানিতে অবমূল্যায়ন ও অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের কথা আমরা পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই দেখতাম। এ-সংক্রান্ত অভিযোগ আজকাল আর শুনি না। তবে সুনির্দিষ্ট মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়মিতভাবে তা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Posted ০২:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com