অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২১ বার পঠিত
মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানো সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়ার ব্যবহার, ভ্রমণসংক্রান্ত লেনদেন সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা বিনিময় (কারেন্সি সোয়াপ) ব্যবস্থা চালু করা।
গত ৮ অক্টোবর মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
চিঠিতে বলা হয়, মালদ্বীপে আনুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশি কর্মীরা এখনো দেশে টাকা পাঠাতে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিরাপদ, স্বচ্ছ, দ্রুত ও কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
রুফিয়ায় লেনদেনের প্রস্তাব
প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহার করে লেনদেনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় মালদ্বীপ থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপকদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমানো এবং লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভ্রমণকারীদের লেনদেনেও আসছে প্রস্তাব
দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও মানি ট্রান্সফার অপারেটরগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য খরচ রুফিয়ায় পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকা মুদ্রায় লেনদেনযোগ্য কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব লেনদেনের নিষ্পত্তি হবে দুই দেশের সম্মত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায়।
দুই দেশের মধ্যে মুদ্রা বিনিময় চুক্তির উদ্যোগ
তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সব ব্যবস্থাই দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান মেনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল নিয়ে এমএমএর সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালন পদ্ধতি এবং অর্থ লেনদেনের নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মালদ্বীপে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালদ্বীপে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। ফলে দেশটি বাংলাদেশের জন্য রেমিট্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
রেমিট্যান্স পাঠাতে কেন ভোগান্তি?
মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের অন্যতম সমস্যা হলো দেশটির স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা। ফলে অনেক প্রবাসীকে খোলাবাজার থেকে মার্কিন ডলার কিনে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মুদ্রা বিনিময়ের সময় এক দফা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর জন্য উচ্চ কমিশন দিতে হওয়ায় খরচ আরও বেড়ে যায়। অর্থাৎ, মুদ্রা রূপান্তর ও রেমিট্যান্স ফি—দুই ক্ষেত্রেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে দুই দেশের সম্মতি, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং কার্যকর লেনদেনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর।
Posted ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com