|

Advertisement
×
টোকিও হাই-লেভেল রাউন্ডটেবিল

সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার ওপর জোর দিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ২২৬ বার পঠিত

সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার ওপর জোর দিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাগর ও মহাসাগরের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হলে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১৪(এসডিজি) বাস্তবায়নের জন্য যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সমন্বিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি বুধবার জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ওশেন ডিকেড ফিফথ ফাউন্ডেশনস ডায়ালগ- হাই-লেভেল রাউন্ডটেবল উইথ অ্যাম্বাসেডরস, এক্সপার্টস অ্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স’ শীর্ষক বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন। এ অধিবেশনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘“ড্রাইভিং ওশেন লিডারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন: অ্যাডভান্সিং গভার্নেন্স, ব্লু ইকোনমি, অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স টু অ্যাচিভ থার্টি বাই থার্টি”।

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও হুমকি:
রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্লাস্টিক দূষণে বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, এই দূষণের একটি বড় অংশ আসে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে। চলমান আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক দূষণ চুক্তিতে ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পের ভয়াবহ প্রভাবের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এ বিষয়ে বিদ্যমান হংকং কনভেনশনকে তিনি “অপর্যাপ্ত” বলে অভিহিত করেন এবং এ খাতের জন্য আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা:
বক্তৃতায় তিনি বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই সাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘অ্যাসেসমেন্ট অব কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন বায়োডাইভার্সিটি রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ডাটাবেজ, সংরক্ষণ পরিকল্পনা এবং পর্যবেক্ষণ প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তার প্রভাব নিয়ে গবেষণার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের সমুদ্র জীববৈচিত্র অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের সম্ভাবনা বিশাল হলেও এর সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে টেকসই সীফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। একই হুমকিতে রয়েছে বিশ্বের ৫২টি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। তাই বৈশ্বিক সংহতি ও সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

এ আলোচনায় আরও অংশ নেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. আতসুশি সুনামি, জাপানে নরওয়ে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিন ইগ্লুম, ইউনেস্কো-আইওসি’র চেয়ার অধ্যাপক ইউতাকা মিচিদা, আইওসি-আইএনডিও সাব-কমিশনের চেয়ার ড. সাইফ আলগাইস, এবং এওসিস (জাতিসংঘের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র জোট)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি ইলানা ভি. সাইদ।

বৈঠকে নীতিগত সমন্বয়, ব্লু ইকোনমির উন্নয়ন, সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণা এবং ‘থার্টি বাই থার্টি’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

Posted ০২:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com