|

Advertisement
×

এবার অভিযোগ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেনের

রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৪ বার পঠিত

এবার অভিযোগ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেনের

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য ও প্রেক্ষাপট পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনঃতদন্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন।

গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে মেহমুদ হোসেন উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে উল্লিখিত অধিকাংশ তথ্য বাস্তব ঘটনা, সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তাঁর দাবি।

আবেদনে বিশেষভাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের স্বাভাবিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়ম, বিদেশ ভ্রমণ, বোর্ড সভা, পরিচালকদের অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি, অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণ, ৩৮ কর্মদিবসের মধ্যে ২২ দিন ব্যাংকে উপস্থিতি এবং খেলাপি গ্রাহকদের সঙ্গে সভাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মেহমুদ হোসেনের দাবি, এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে বোর্ডের সিদ্ধান্ত, বোর্ড মেমো, বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো সভার কার্যবিবরণী, দাপ্তরিক কাজে উপস্থিতির রেকর্ড, বোর্ড সভায় অংশগ্রহণের নথি, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া ব্যাখ্যা এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এসব তথ্য যাচাই করা হলে প্রকাশিত অভিযোগের ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আসতে পারে।

আবেদনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল, সেসব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের তৎকালীন গভর্নরের দেওয়া নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যানদের ব্যাংকের সংকটময় সময়ে প্রচলিত বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্বের বাইরে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে বলা হয়।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, তদন্তে উত্থাপিত বা পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ না থাকলে তা ব্যাংকের সুনাম ও জনআস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রকাশিত সংবাদে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমানতকারী, গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর সুশাসন, শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। অতীতে সংঘটিত অনিয়ম বা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এ অবস্থায় আইএফআইসি ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হলে ব্যাংককে ঘিরে তৈরি বিভ্রান্তি দূর হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আবেদনের শেষাংশে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে বিষয়টির পুনর্মূল্যায়ন বা পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ, অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণ, নিয়োগে অনিয়ম, অনুমোদনহীন বিদেশ সফর ও ব্যক্তিগত প্রচারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করে বড় করপোরেট গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখায় চেয়ারম্যানের ছবি ও বাণী প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিভিন্ন তদন্ত কমিটি, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত সম্মানী নিয়েছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব খাতে অন্তত ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত সম্মানী দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া নিয়মিত সভার বাইরে একাধিক সভা করে ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।

বিদেশ সফরেও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইএফআইসি মানি ট্রান্সফারকে ঘিরে ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সফরে ব্যাংকের প্রায় ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশ দেশে আসেনি।

নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা না মেনে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের পূর্ববর্তী কর্মস্থলের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কাজে পরিচালনা পর্ষদের হস্তক্ষেপ বন্ধ, চেয়ারম্যানের ছবি ও প্রচারসামগ্রী অপসারণ, অতিরিক্ত সম্মানী ফেরত এবং বিতর্কিত নিয়োগগুলো পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করেছে। প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন ও এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফাকে কয়েকবার ফোন করলেও তারা কেউ ফোন ধরেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন অভিযোগ ইতোমধ্যেই তদন্ত হয়েছে। তবে চেয়ারম্যানের পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মনে করলে পূণরায় তদন্ত হতে পারে যদি উপযুক্ত তথ্য উপাত্ত থাকে।

টানা দুই বছর লোকসানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংক ২০২৫ সালে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৪৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com