অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৪১ বার পঠিত
রমজানের আগেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ছোলার দাম | দুই মাসে পাইকারিতে কেজিতে বেড়েছে ১৩–২১ টাকা, খুচরায় বিক্রি ১২০ টাকা পর্যন্ত
রমজান সামনে রেখে দেশে ছোলার আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও এর প্রভাব পড়ছে না বাজারদামে। বরং চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলার আমদানি বেড়েছে প্রায় ১২ গুণ। এরপরও গত এক থেকে দুই মাসে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ২১ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে বন্দর দিয়ে দেশে ছোলা এসেছে ১৭ হাজার ১৭৭ টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৩৮১ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই দুই মাসে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ টন।
এ ছাড়া বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে এসেছে প্রায় আড়াই লাখ টন ছোলা। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে ছোলার চাহিদা থাকে ১০ থেকে ১২ হাজার টন। রমজানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টনে।
আমদানির পরিমাণ বাড়ার বিপরীতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায়। এতে কেজিপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ৯৯ থেকে ১০১ টাকা। আগে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হতো ৮০ থেকে ৮৬ টাকায়।
খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আরও বেশি। আগে যে ছোলা ৮২ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, এখন তা কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। ফলে রমজানের আগেই বাড়তি দামের চাপে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার বুকিং দর বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার উৎপাদন কমতে পারে—এমন পূর্বাভাসের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির বুকিং দর প্রতি টন ৮৫০ ডলারে উঠেছিল। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হলেও আমদানি বাড়ার পরও কেন স্থানীয় বাজারে দাম কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ছোলার বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আগেভাগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, অসাধু বাণিজ্য ঠেকাতে রমজানের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ছোলার আমদানি, মজুদ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।
রমজানে ছোলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এ সময়ে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তাই আগাম আমদানি, পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং বাজার তদারকির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সব মিলিয়ে, ছোলার আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম কমার পরিবর্তে উল্টো ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায় কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করাই এখন ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরানোর বড় চ্যালেঞ্জ।
Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন