নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৮ বার পঠিত
নিরীক্ষককে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ না করার অভিযোগে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহীর (সিইও) পদ থেকে অপসারণের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছিলেন বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল। পরবর্তীতে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে তাঁর সিইও পদে নিয়োগ নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। এরপর মামলা প্রত্যাহার করে ২০২৬ সালের মার্চে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চায় বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল।
ক্ষমা প্রার্থনার পর চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২০২৭ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত এক বছরের জন্য দেশের সব বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে বিশ্বজিৎ কুমারের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আইডিআরএ। এক বছর পর যমুনা লাইফ এবং হোমল্যান্ড লাইফ ব্যতীত অন্য কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী, এবং এক বছরের মধ্যে যমুনা লাইফ এবং হোমল্যান্ড লাইফ ব্যতীত অন্য কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী ব্যতীত অন্য পদে নিয়োজিত হতে পারবেন বলে শর্ত দেয় আইডিআরএ।
তবে এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে তাঁর নিয়েগে বাধা না থাকায়, বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল এবার নতুন কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে। গত ৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পদ ‘অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ (এডিশনাল এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। তবে তার এই নিয়োগে বীমা খাতের সুশাসন নিয়ে গ্রাহক ও সাধারণ অংশীজনদের মাঝে নতুন বিতর্কের খোরাক জোগাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারির পর এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার একের পর এক শীর্ষ পদে ফেরা খাতের শৃঙ্খলার জন্য কতটুকু সহায়ক, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল যার বিরুদ্ধে আইডিআরএ বীমা আইন ২০১০ এর ৫০(১) (খ) ধারা প্রয়োগ করেছে। তার মতো কর্মকর্তা প্রগ্রেসিভ লাইফে বীমা পলিসি গ্রাহক এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ কতটা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবেন সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বীমা কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ শুধু ব্যক্তির পেশাগত পদায়নের বিষয় নয়। এর সঙ্গে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা, বীমাদাবি নিষ্পত্তি, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলার প্রশ্ন জড়িত। সেক্ষেত্রে কাউকে নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকস্বার্থই হওয়া উচিত মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দু । বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে সংম্লিষ্টদের ইমেজ একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে বিশ্বজিতের মতো বিতর্কিত ইমেজধারী কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারবে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ-কোন বিবেচনায় তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে, পূর্ববর্তী নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না সেই উত্তর এখনো মেলেনি।
Posted ০৯:০৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন