|

Advertisement
×
অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার শঙ্কা

শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি রিহ্যাবের

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৮ বার পঠিত

শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি রিহ্যাবের

জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির আশঙ্কা, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক এ ব্যবসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।

তিনি বলেন, জমির শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, নির্মাণের সক্ষমতা ও অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা থাকে না। ফলে বিনিয়োগ করেও ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট পাওয়া কিংবা বৈধ মালিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিহ্যাবের অভিযোগ, একই জমি বা ভবনের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রি, অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সংগ্রহ এবং নির্মাণ ব্যয়ের অস্বচ্ছ হিসাবের কারণে ক্রেতারা ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেক প্রকল্পে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অসংগতি রয়েছে। এতে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, জমির শেয়ার কিনলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। অংশীদারদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ, দখল, দলিল নিবন্ধন ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমনকি ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক রাখা এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বন্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ, জমির মালিকানা ও প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত না করে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ, বিদ্যমান প্রকল্পের স্বাধীন কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা এবং প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি প্রকল্পের আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা এবং দক্ষ প্রকৌশলী ও স্থপতির মাধ্যমে নির্মাণকাজ তদারকির দাবি জানানো হয়।

ড. আলী আফজাল বলেন, যৌথ মালিকানা বা বৈধ বিনিয়োগের বিরোধিতা করছে না রিহ্যাব। তবে অংশীদারত্বের নামে এমন ব্যবসা গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের মালিকানা ও হস্তান্তরের নিশ্চয়তা নেই। এ ধরনের প্রকল্পে নতুন বিক্রয় ও অর্থ সংগ্রহ আইনগত পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রিহ্যাব নেতারা বলেন, আবাসন খাতের সঙ্গে তিন শতাধিক সংযোগ শিল্প জড়িত। নির্মাণ খাতের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ এবং এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসার কারণে আইন মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) ড. মো. হারুন অর রশিদসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৭:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com