নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৩২ বার পঠিত
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ১০ ধরনের ভোগ্যপণ্য আমদানিতে নগদ মার্জিন (ক্যাশ মার্জিন) সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে মার্জিন নির্ধারণ করতে হবে। আগামী ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রমজানের আগে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক নগদ অর্থের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। রমজানকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসব পণ্যের আমদানি সহজ করা, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চাল, গম (আটা), পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ এসব পণ্যের এলসি খোলার সময় আমদানিকারকদের কাছ থেকে উচ্চহারে নগদ অর্থ জমা নেওয়া যাবে না। বরং সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে মার্জিন নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে উল্লিখিত পণ্যগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে রমজানের আগে বাজারে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, সেগুলোর আমদানি কার্যক্রম যাতে কোনো ধরনের আর্থিক বা ব্যাংকিং জটিলতায় বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
সার্কুলারে এ-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর-৪১-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নম্বর-২৪-এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের চাহিদা বিবেচনায় কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নগদ মার্জিনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার কার্যকারিতা ছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
এবার আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে একই ধরনের সুবিধা দিয়ে নতুন করে নির্দেশনা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকেরা সংশ্লিষ্ট ১০ ধরনের পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সময় তুলনামূলক কম নগদ অর্থ জমা দিয়ে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন।
সাধারণত আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় ব্যাংক আমদানিকারকের কাছ থেকে এলসির মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ মার্জিন হিসেবে জমা নেয়। এই অর্থ আমদানিকারকের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হয়। মার্জিনের হার বেশি হলে আমদানির শুরুতেই ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের অর্থ আটকে থাকে, যা তাদের কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে নগদ মার্জিন কম হলে তুলনামূলক কম নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেই আমদানি ঋণপত্র খোলা সম্ভব হয়।
ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের সুবিধা আমদানির ব্যয় ও অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের ক্ষেত্রে আগেভাগে এলসি খোলা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। তবে আমদানির সুবিধা বাড়লেই যে সরাসরি খুচরা বাজারে দাম কমবে, তা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয়, আমদানি শুল্ক এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থার ওপরও বাজারদর নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অনুসরণ করে আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
Posted ০৮:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন