আদম মালেক
সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১ প্রিন্ট ৪৪৭ বার পঠিত
মুখ থুবড়ে পড়ছে ব্যাংকের বিদেশী শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজ। চুরি-দুর্নীতির জন্য তহবিল সংকটে অনেক ব্যাংক। এজন্য দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক ব্যাংকের বিদেশী শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজকে। লোকসানি শাখাগুলো এতোদিন ধার-দেনা করে চললেও এখন সে পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থ জোগানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতিও মিলছে না। তবে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে গা করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজ। বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম বলে পর্যবেক্ষকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংকের ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইএনসি’ থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯৪৭ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। যদিও অর্থ উদ্ধারে নিউইয়র্কে মামলা করেছে জনতা এক্সচেঞ্জ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অব্যাহত লোকসানে ২০১৭ সালে কানাডায় এক্সচেঞ্জ হাউজের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় অগ্রণী ব্যাংক। একই কারণে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ব্যাংকটির এক্সচেঞ্জ হাউজ বন্ধ করা হয়। যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের ৬টি শাখার ৪টিই বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া বেসরকারি এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক লন্ডনের এক্সচেঞ্জ হাউজ বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এক্সচেঞ্জ হাউজ গুটিয়ে নিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক কানাডা ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক্সচেঞ্জ হাউজ গুটিয়ে ফেলেছে। এতে মুদ্রা পাচারসহ যে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ১১ বছর ধরে লোকসান গুনছে ইতালির জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয়। ওই বছরের জুন থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির রোম ও মিলানে দুটি শাখা রয়েছে। ইতালিতে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজ ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ ১১ বছর টানা লোকসানে চলছে। প্রতি বছরই বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৩ লাখ ইউরো লোকসান করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। গত কয়েক বছরের লোকসান বাবদ প্রায় ১২ লাখ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ ইতালিতে পাঠানোর অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিল জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ক্ষতিপূরণের অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেয়নি।
লোকসানের কবলে সোনালী ব্যাংক যুক্তরাজ্য শাখাগুলোও। সরকার ও সোনালী ব্যাংকের যৌথ মালিকানায় ২০০১ সালে সোনালী ব্যাংক যুক্তরাজ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। দেশটিতে ৬টি শাখা খোলা হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে লোকসানে পড়ে ইতিমধ্যে চারটি শাখা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ২ জুন সোনালী ব্যাংক ইউকের ওল্ডহ্যাম শাখা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেন তৎকালীন ব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের লোকসানে পড়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শাখাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বড় অঙ্কের লোকসানে থাকায় গত বছরের ৩০ জুন লুটন শাখা, ৩০ সেপ্টেম্বর কেমডেন শাখা এবং ৩০ ডিসেম্বর ব্র্যাডফোর্ড শাখা বন্ধ করা হয়।
বর্তমানে চালু থাকা বার্মিংহাম ও লন্ডনের প্রধান শাখাও চলছে ধুঁকে ধুঁকে। লোকসান মেটানো ও দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মানুযায়ী মূলধন জোগান দিতে এ বছরের শুরুর দিকে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা জোগান দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে সরকার দিয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ১৭১ কোটি টাকা।
Posted ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com