নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫ প্রিন্ট ৬৫৭ বার পঠিত
অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না হলেও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে ভারপ্রাপ্ত সিইও মুহাম্মদ আসিফ সামছকে নিয়োগ দিতে চায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় তার এই নিয়োগ প্রস্তাবকে ঘিরে বিতর্ক উঠেছে। গত ৯ জুলাই চার্টার্ড লাইফের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী পদে যোগদান করেন আসিফ। এর আগে ৬ এপ্রিল কোম্পানিটির নিয়মিত সিইও এস এম জিয়াউল হক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। তার স্থলে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সূত্র বলছে, এমদাদ উল্লাহকে ভারমুক্ত করে আসিফকে নিয়মিত সিইও করার প্রস্তাব দিতে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত সিইও পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
যদিও বীমা কোম্পানির সিইও নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে-সিইও হতে হলে কোনো বীমা কোম্পানিতে পূর্বে সিইও বা তার অব্যবহিত নিম্নপদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, সঙ্গে থাকতে হবে বীমা খাতে অন্তত ১২ বছরের অভিজ্ঞতা। তবে প্রস্তাবিত প্রার্থী এ পর্যন্ত কোনো কোম্পানির সিইও কিংবা তার অব্যবহিত নিম্নপদে ছিলেন না বলে জানা গেছে। তিনি সর্বশেষ মেটলাইফ বাংলাদেশে এসইভিপি (সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট) ও হেড অব ব্যাংকাস্যুরেন্স পদে কর্মরত ছিলেন।
বীমা খাতের প্রচলিত কাঠামো অনুসারে, এসব পদকে সিইও’র অব্যবহিত নিম্নপদ হিসেবে গণ্য করা হয় না। সাধারণত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিশনাল এমডি) পদই এ ক্ষেত্রে স্বীকৃত। প্রবিধানের একটি ধারায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত বহুজাতিক বীমা কোম্পানিতে ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা’ পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে, কর্তৃপক্ষ চাইলে কিছু শর্তে ছাড় দিতে পারে। কিন্তু মেটলাইফ বাংলাদেশের স্থানীয় অফিসে যেসব পদ ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত, তার মধ্যে আসিফের পদের নাম নেই।
এছাড়া, মেটলাইফ বাংলাদেশ একটি বিদেশি বীমা কোম্পানির শাখা হিসেবে কাজ করছে। মূল কোম্পানির আন্তর্জাতিক কাঠামোতেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। ফলে এই ব্যতিক্রম ধারার সুবিধাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রকাশিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, আসিফ সামছের পদ ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা’ স্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এই ব্যতিক্রম ধারার সুযোগও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালার প্রবিধান ৩ এর দফা (খ) এ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্তে বলা হয়েছে, ‘মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ পেতে ‘ইতিপূর্বে কোন বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে বা উহার অব্যবহিত নিম্নপদে অন্যূন ২ (দুই) বৎসরের অভিজ্ঞতাসহ বীমা ব্যবসায় অন্যূন ১২ বৎসরের অভিজ্ঞতা’ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ আসিফ সামছকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রস্তাব করলেও- কোনো বীমা কোম্পানিতেই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা এর অব্যবহিত নিম্নপদে তার চাকরির অভিজ্ঞতা নেই। আসিফ সর্বশেষ মেটলাইফ বাংলাদেশের এসইভিপি ও হেড অব ব্যাংকাস্যুরেন্স পদে কর্মরত ছিলেন। যেটি কোনভাবেই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদ নয়। দেশের জীবন বীমা খাতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্নপদ বলতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অ্যাডিশনাল এমডিকেই বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে মেটলাইফ বাংলাদেশেও সিইও’র অব্যবহিত নিম্নপদ হিসেবে এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর নামে একটি পদ রয়েছে। যেই পদে আসিফ সামছ দায়িত্ব পালন করেননি।
প্রবিধান ৩ এর দফা (খ) এ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্তে আরো বলা হয়েছে-‘তবে শর্ত থাকে যে, বীমাকারীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত মনে করিলে উক্ত শর্তের ব্যত্যয় ঘটাইয়া নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ অনুমোদন করিতে পারিবে, যথা:- (আ) আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত বহুজাতিক বীমা কোম্পানিতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদে অন্যূন ১০ বৎসরের বীমা বিষয়ক কাজে সরাসরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে।’
তবে এক্ষেত্রে ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা’ পদের কোনো সংজ্ঞা প্রবিধানে দেয়া হয়নি। আসিফ সামছ তার জীবন বৃত্তান্তে মেটলাইফ বাংলাদেশে দায়িত্বপালনের যে অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন-তা কোম্পানিটির ‘ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা’ পদ হিসেবে প্রতীয়মান হয় না।
মেটলাইফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের যে অগ্রানোগ্রাম প্রকাশ্যে রয়েছে সেখানে দেখা যায়- এসব পদগুলোর মধ্যে সিইও এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ অপারেশন্স অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এজেন্সি সেলস অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এজেন্সি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ মার্কেটিং অফিসার পদগুলো রয়েছে। আসিফ এসব পদে দায়িত্ব পালন না করায় তার অভিজ্ঞতা প্রবিধানের এই ধারার শর্তও পূরণ করে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এছাড়া প্রবিধানে বহুজাতিক বীমা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে- এক্ষেত্রে মেটলাইফ একটি বহুজাতিক বীমা কোম্পানি হলেও এটি বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানির একটি শাখা হিসেবেই অনুমোদিত আছে। যার প্রধান কার্যালয় বিদেশে এবং সেখানে আসিফ সামছের কোনো কর্ম অভিজ্ঞতার কথা জীবন বৃত্তান্তে নেই। এমনকি এদেশেও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। সুতরাং প্রবিধানের আলোকে এই মুহূর্তে কোনো লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আসিফ সামছকে অনুমোদনের জন্য যে শর্ত তা পূরণ হয়নি বলে প্রতীয়মান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুহাম্মদ আসিফ সামছের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা হলে তার সাড়া মেলেনি। চার্টার্ড লাইফের সিইও’র ইমেইল ঠিকানা এবং আসিফের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে প্রশ্ন পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Posted ০৮:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com