সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
সাক্ষাৎকার : মো. শাহ আলম, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ অনেক দিন ধরেই মন্থর হয়ে আছে

রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫   প্রিন্ট   ৪৩১ বার পঠিত

ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ অনেক দিন ধরেই মন্থর হয়ে আছে

বর্তমান প্রেক্ষপটে জাতীয় নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. শাহ আলমের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মূল্যবান মতামত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এম এ খালেক। সাক্ষাৎকারের বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো:

দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: চব্বিশের গণআন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল বলে মনে করেন?

মো. শাহ আলম: চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। তারা ন্যায্য অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে এমন একটি দেশ তারা ফিরে পাবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট সাধারণ মানুষের এ ধরনের কিছু প্রত্যাশা ছিল।
প্রতিবারই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আকাক্সক্ষা তৈরি হয়। চব্বিশের গণ আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তিত হলে মানুষের মনে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল তা বাস্তবায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তেমন কোন সাফল্য প্রদর্শন করতে পারেনি। ব্যাংকিং এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে কিছুটা অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল কিন্তু সেই সাফল্য এখন মন্থর হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। দরিদ্র মানুষে তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করতে পারছে না। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক দিন ধরেই মন্থর হয়ে আছে। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় আহরিত না হবার কারণে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। উপরন্ত অনেক কল-কারখনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চালু কারখানাগুলোও তাদের উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। কল-কারখানায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চাকরিচ্যুতি ও শ্রমিক ছাঁটাই। ফলে বেকার সমস্যা ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশে আইনের শাসন বজায় থাকা খুবই জরুরি। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অবলীলাক্রমে মব সন্ত্রাস চলতে দিয়েছে এবং তাদেরকে প্রেসার গ্রুপ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বলে মানুষ মনে করছে। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। প্রতিবারই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলে কয়েক দিনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও দ্রুতই তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এবার তার ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হবার পর এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এখনো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বর্তমানে দেশের পাওয়ার সেন্টার এক কেন্দ্রিক নয়। কারা দেশ চালাচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে না। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

মো. শাহ আলম: পাওয়ার সেন্টার এক কেন্দ্রিক নয়। দেশে বর্তমানে বহু পাওয়ার সেন্টার সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজে একটি পাওয়ার সেন্টার, বিএনপি একটি পাওয়ার সেন্টার। জামায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার সেন্টার বা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) একটি পাওয়ার সেন্টারের পরিণত হয়েছে। এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরোক্ষ সহযোগিতায় সৃষ্টি হয়েছে। বহুবিধ পাওয়ার সেন্টারের কারণে সাধারণ মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না আসল পাওয়ার সেন্টার কোথায় অবস্থিত। ক্ষমতা বহু কেন্দ্রিক হলে শাসনকার্য পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থা হয়েছে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’র মতো। মানুষ সরকারের অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছে না। আর একটি উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য দৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় যতটা তৎপর, তার চেয়ে বিদেশি সাম্রজ্যবাদি শক্তি ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ড বস্তবায়নে বেশি আগ্রহী। বিপুল প্রাণের বিনিময়ে সরকার পরিবর্তন করে মানুষ তাদের প্রত্যাশিত অর্জন দেখতে পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ কার্যত নিজেদের প্রতারিত মনে করছে। যারা আন্দোলনকালে জীবন দিয়েছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পর্যন্ত এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষ একে আন্দোলনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলেই মনে করছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলনের মাধ্যমে যত সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে তার কোনটিই গণপ্রত্যাশা মতো কাজ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার একই পথে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালনী সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছেন। কমিশন দীর্ঘ দীর্ঘ দিন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিছু ব্যাপারে ঐকমত গঠনের চেষ্টা করছে। জুলাই সনদের মাধ্যমে রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ’৭২ এর মূল সংবিধান বাতিলের লক্ষ্য নিয়ে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। কিছু নীতিগত মৌলিক মত পার্থকের কারণে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে আমরা এই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি।

দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: অনেকেই অভিযোগ করেন চব্বিশের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এ ব্যাপারে কিছু বলবেন কি?

মো. শাহ আলম: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্য দূরীকরণ এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। বৈষম্য দূরীকরণ ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের আড়ালে শেখ হাসিনার দুরন্ত কর্তৃত্ববাদি শাসন ও প্রচন্ড জনবিচ্ছিন্নতার কারণে সাধারণ মানুষও আন্দোলনে শরীক হয়। সেই আন্দোলনের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তারা আন্দোলনের নেতৃত্বের পর্যায়ে চলে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে স্বাধীনতা শক্তির উত্থানের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। এর দায় শেখ হাসিনাকেই বহন করতে হবে। কারণ তার আমলে এমন অপশাসন প্রতিষ্ঠা না করা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাজনীতিতে এভাবে প্রবেশ এবং অবস্থান তৈরি করে নিতে পারতো না। বিগত সরকার যদি দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতো তাহলে বাইরে থেকে কোন অপশক্তি অনুপ্রবেশ ঘটতো না। কোন সরকারের যদি জনসম্পৃক্ততা থাকে তাহলে সেখানে কোন অপশক্তির উত্থান ঘটে না। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখন দুর্দন্ড প্রতাপে জাতিকে হুমকি দিয়ে চলেছে। তারা বিভিন্নভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে। শান্তিপ্রিয় মানুষ এটা চায় না। তারা এখন কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে শুরু করেছে ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিয়ে অন্তর্বতীকালীন সরকার ও সামাজ্যবাদি শক্তি যে পাওয়ার গেম খেলছে তার ফলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এমন অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এত দীর্ঘ সময় নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। তাদের প্রাথমিক কিছু সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত ছিল। নেপালের ক্ষেত্রে আমরা কি দেখলাম? ক্ষমতায় বসার পর নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের বিষয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি’র ব্যর্থতা রয়েছে। আন্দোলনের পর বিএনপি যে অবস্থানে ছিল তারা চাইলে অত্যন্ত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায় করে নিতে পারতো। বিএনপি বর্তমানে তার অবস্থান হারাচ্ছে। বিপরীতে জামায়াত তার অবস্থানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। বিএনপি’র নিকট সাধারণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি উত্থাপন করে সেই দাবি আদায় করে নিতে পারতো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা অন্য যে কোন ফর্মে গঠিত অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। এতে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি আদায় করে নিতো তাহলে তাদের জনপ্রিয়তা বহাল থাকতো। বিএনপি’র এক শ্রেণির দলীয় কর্মী অথবা অন্য দলের লোক যারা বিএনপি’র পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে তার দায় বিএনপি’র উপর বর্তাচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের জন্য বিএনপি’কে দায়ী করা যেতো না। কিন্তু বিএনপি সেটা না করার কারণে তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জামায়াত যথাসম্ভব চাঁদাবাজি বা এ ধরনের সমাজবিরোধী কাজ করা থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হবার কারণেই একাধিক পাওয়ার সেন্টারের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলে দেশ একটি পাওয়ার সেন্টারে চলে আসতো। মানুষ তাদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারতো। সরকারের দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা তৈরি হতো।

দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাইরের শক্তির প্রভাব কতটুকু বলে মনে করেন?

মো. শাহ আলম: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই বিদেশি শক্তির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বাংলাদেশে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর স্বার্থ রক্ষা করাটা প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক রণনীতি আছে। তারা তাদের সিনেট ও কংগ্রেসে বার্মা অ্যাক্ট পাশ করিয়ে রেখেছে। মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠী সশস্ত্র সংগ্রাম করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মদদ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের জিও-পলিটিক্সে চীনকে ঘেরাও করা। ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোয়াড চুক্তি আছে। কিন্তু বর্ধিত শুল্কারোপ প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বাগরাম বিমান ঘাঁটি প্রশ্নে আফগানিস্থান সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার সঙ্গে নাগাল্যান্ড, মনিপুরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে। এখানে ভারতীয় গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে। আমেরিকা এখানেও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মানবিক কড়িডোরের নামে তারা বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

আমাদের সেনাবাহিনী খুব ভালো ভূমিকা পালন করছে। তবে তাদের আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিশেষ করে মব সন্ত্রাস দমনে তাদের তৎপর হওয়া প্রয়োজন। সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছে। যে কোন ধরনের সন্ত্রাস ও বেআইনি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর আরো অধিক ভূমিকা দেখতে চায় দেশের মানুষ। অন্তর্বতীকালীন সরকারের তৈরি প্রেসার গ্রুপ দমনে সেনা বাহিনীকে আরো তৎপরতা হতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। আগামী মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় প্রদান শুরু হবে। এই সময় দেশে বিশঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি রাখতে হবে। বিগত সরকার আমলে ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে পুলিশ সহসাই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে হয় না। পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টিতে আরো সময় লাগবে। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনা বাহিনীকেই দায়িত্ব নতে হবে। কোন কোন উপদেষ্টা নানা ধরনের খেলা খেলছে।

সেনাবাহিনী কঠোরভাবে মানবিক কড়িডোরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ কারণে আমেরিকা সেনাবাহিনীর উপর রেগে আছে। মূলত এ কারণেই চাকরিতে থাকা কিছু সেনা কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। সেনাবাহিনী থেকে বলা হচ্ছে, তারা সেনা আইনে অভিযুক্তদের বিচার করবে। অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহম্মেদ সম্প্রতি বলেছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হোক এটা আমরা চাই না। এর ভার জাতি বহন করতে পারবে না। বিএনপি চাচ্ছে এই মুহূর্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশে বর্তমানে অগ্নিগর্ভ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশে যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যদি যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয় তাহলে আমেরিকার আশির্বাদপুষ্ট শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারে, যদিও কাজটি বেশ কঠিন। এখানে ভারতের ভূমিকা আছে। এসব ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ এক ধরনের স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। আগামীতে বিষয়টি কোন দিকে যায় তার উপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি খেলছে। এটা জাতির জন্য কোনভাবেই মঙ্গলজনক নয়।

আগামী নভেম্বর মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় ঘোষণা শুরু হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করা হতে পারে। এসব বিবেচনায় আগামী নভেম্বর মাসটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই সনদ হবে দেশের প্রচলিত সংবিধানের ঊর্ধ্বে। এটা নিয়ে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। জুলাই সনদ কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে মতভেদ দেখা যাচ্ছে। জামায়াত এবং অন্য আরো কয়েকটি দল চাচ্ছে গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করা হোক। আমরা চাচ্ছি নির্বাচিত সরকার সংসদে বিল উপস্থাপনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তি চাচ্ছে। কিন্তু এর কোন প্রয়োজন ছিল না। সরকার যদি সৎ উদ্দেশ্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে থাকে তাহলে তো তাদের দায়মুক্তি চাইতে হবে কেন? অতীতে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে তার কোনটিতেই যারা যুক্ত ছিলেন তাদের দায়মুক্তি নিতে হয়নি। দায়মুক্তি কারা চায়? যাদের ভয় আছে। তোমরা যদি সঠিক কাজ করে থাকো তাহলে দায়মুক্তির প্রশ্ন আসবে কেন? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি দায়িত্ব গ্রহণের পর ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতেন তাহলে দায়মুক্তি বা নিরাপদ প্রস্থান বা সেইফ এক্সিটের প্রশ্ন আসতো না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জননন্দিত হয়ে থাকতে পারতো।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com