এম এ খালেক
রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৪৪৩ বার পঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ও রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিচার্স ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেছেন, অভিবাসন সাধারণত দুই রাষ্ট্রের ভেতরে হয়ে থাকে। আর সে কারণেই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র দু’টি দ্বিপাক্ষিক সমস্ত বিষয়াবলি দেখাশুনা করে (ডিল)। দেখা যাচ্ছে, এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অভিবাসনের বিষয়াবলি নিয়ে ভিল হয় তখন যারা গ্রহীতা দেশ তারা অনেক কিছুই প্রেরণকারী দেশের উপর চাপিয়ে দেয়। বিশেষ করে গ্রহীতা দেশ সব সময়ই চেষ্টা করে কিভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়। দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন এম এ খালেক।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা কেনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো ?
প্রফেসর ড.তাসনিম সিদ্দিকী: অভিবাসন সাধারণত দুই রাষ্ট্রের ভেতরে হয়ে থাকে। আর সে কারণেই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র দু’টি দ্বিপাক্ষিক সমস্ত বিষয়াবলি দেখাশুনা করে (ডিল)। দেখা যাচ্ছে, এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অভিবাসনের বিষয়াবলি নিয়ে ডিল হয় তখন যারা গ্রহীতা দেশ তারা অনেক কিছুই প্রেরণকারী দেশের উপর চাপিয়ে দেয়। বিশেষ করে গ্রহীতা দেশ সব সময়ই চেষ্টা করে কিভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এ কারণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকের অধিকার ক্ষুন্ন হয় বা যে অধিকার তাদের প্রাপ্য তা দেয়া হয় না। বিশেষ করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের তুলনামূলক কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিবাসী শ্রমিকরা যেহেতু অসহায় তাই তারা বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের শর্ত এবং আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে দেয়া অধিকারসমূহ মানা হয় না। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়ে শ্রমিকদের নানাভাবে বঞ্চনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। যেসব শর্ত মেনে অভিবাসন হবার কথা তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পূরণ হয় না। অনেকেই ব্যর্থ অভিবাসী হয়ে দেশে ফেরত আসেন। অনেকেই শারীরিক এবং মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হন। অনেকে মৃত্যুমুখে পতিত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশই কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পান না। আবার এটাও ঠিক যে, অনেকেই ভালো কাজ করে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে দেশে প্রেরণ করছেন। জাতিসংঘ মনে করে, সবচেয়ে ভঙ্গুর (ভার্নারেবল) শ্রম শক্তি হচ্ছেন অভিবাসী শ্রমিকেরা। এই অবস্থায় জাতিসংঘ ২০০৪ সালে একটি গ্লোবাল কমিশন অন মাইগ্রেশন তৈরি করে। এই কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তোমরা বল জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান (বডি) অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজন আছে কিনা। যাতে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি পক্ষভুক্ত দু’টি দেশের উপর ছেড়ে না দিয়ে তাকে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসা যায়। গ্লোবাল কমিশন অন মাইগ্রেশন যে রিপোর্ট প্রণয়ন করে তার ভিত্তিতে তৈরি হলো গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশেন ডেভেলপমেন্ট। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় এটা একটি ফোরাম মাত্র। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন ২০০৬ সাল থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। বলা হলো, জাতিসংঘের যত আন্তঃসংস্থা আছে তারা সবাই মিলে এখানে অংশ গ্রহণ করবে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এটা একটি নন-বাইন্ডিং বডি হিসেবে কাজ করছে জিএফএমডি। এই ফোরামের সম্মেলন একবার হোস্ট করে অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ। পরের বার হোস্ট করে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশ। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে প্রতি বছর ৫০০ থেকে ৬০০ প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন। সিভিল সোসাইটিও এতে অংশ গ্রহণ করে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: জিএফএমডি’তে কি কি বিষয় আলোচিত হয়?
প্রফেসর ড.তাসনিম সিদ্দিকী: জিএফএমডি’তে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়। আবার সিভিল সোসাইটি লেভেলেও দাবিগুলো উঠে আসে, যা সরকারি পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গঠিত হবার পর থেকে কতগুলো বিষয় বারবার গুরুত্ব পাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে অভিবাসনের উচ্চ ব্যয়। আমরা প্রত্যক্ষ করছি, অভিবাসনের জন্য স্বাভাবিকভাবে যে অর্থ ব্যয় হবার কথা প্রকৃত পক্ষে অভিবাসন প্রত্যাশিদের নিকট থেকে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে। আমরা যদি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আলোচনা করি তাহলে দেখবো, মালয়েশিয়ার জনশক্তি প্রেরণের জন্য যে ব্যয় নির্ধারণ করে দেয়া আছে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করে একজন অভিবাসন প্রত্যাশিকে মালয়েশিয়ায় যেতে হচ্ছে। একজন অভিবাসন প্রত্যাশিকে মালয়েশিয়া গমন করার জন্য ৪/৫ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। তারা চেষ্টা করছে কিভাবে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা যায়। দ্বিতীয়ত, অবৈধ পথে অভিবাসন নিয়ে ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। অবৈধভাবে যারা অভিবাসন করছে সেই মানুষগুলোকে অবৈধ মানুষ বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ কখনোই অবৈধ হয় না। তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়াটা বৈধ নয়। তাই বলে মানুষকে তো আর অবৈধ বলা যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় অভিবাসন গ্রহণকারী দেশগুলো এই বিষয়টি প্রতিটি মিটিংয়েই তুলে ধরে। তারা বলছে, তাদের দেশে গিয়ে কিভাবে মানুষ অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। এসব অবৈধ অভিবাসীদের কারণে তাদের দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক ব্যবস্থায় কি কি সমস্যা হচ্ছে এটা তারা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। অভিবাসী প্রেরণকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশে অভিবাসন করার পর মানুষগুলো অবৈধ হয়ে যাচ্ছে তার কারণ হলো, যে শর্তে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় তার প্রায়শই লঙ্ঘন করা হয়। তাদের তুলনামূলক কম মজুরি দেয়া হয়। ফলে অভিবাসনকারী মানুষগুলো এক পর্যায়ে কর্মক্ষেত্র বদল করতে বাধ্য হয়। এতে তারা অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে যারা কর্মক্ষেত্র বদল করেন তাদের অবৈধ বলা যাবে না, তাদের অনিয়মতান্ত্রিক অভিবাসী বলা যেতে পারে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: নারী অভিবাসীর বিষয়টি জিএফএমডি’তে কতটা গুরুত্ব পায়?
প্রফেসর ড.তাসনিম সিদ্দিকী: নারী অভিবাসীদের বিষয়টি প্রতিটি জিএফএমডিতেই আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী অভিবাসির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারা বিদেশে গিয়ে তাদের উপযুক্ত সম্মান এবং অধিকার পাচ্ছে না। যারা বিদেশে যায় তাদের অধিকাংশই গৃহকর্মী হিসেবে গমন করেন। তারা গৃহকর্মী, দাস নন। কাজেই একজন গৃহকর্মীর উপযুক্ত মজুরি এবং সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি। ফোরাম বিভিন্ন সময় নারী অভিবাসিদের উপর দমন-পীড়ন এবং অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। গৃহকর্মীদের সঙ্গে যেসব গৃহকর্তা ভালো ব্যবহার করছেন তাদের সম্মানিত করতে হবে। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে এসব বিষয় আলোচিত হবার ফলে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, ইউএই ইত্যাদি দেশে অনেক সংস্কার সাধন করা হয়েছে নারী অধিকার সম্পর্কে। অভিবাসী ব্যক্তির পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অধিকার দেয়া হয়েছে। এটাও হয়েছে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে আলোচনার কারণেই। অভিবাসনের সামাজিক মূল্যের বিষয়ে নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একজন অভিবাসী দেশে ফিরে আসার পর আর কোথাও যেতে পারছে না এ বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। কোভিডের পর মূল আলোচনা হয়েছে ইন্টিগ্রেশনের বিষয়ে। কোভিডের কারণে যারা বিদেশ থেকে ফিরে আসছেন তাদের নিজ সমাজে, পরিবারে মানসিকভাবে পুনঃএকত্রিকরণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানও পুনঃএকত্রিকরণ নিয়ে কাজ করছে। সোনার মানুষ সম্মাননা দিচ্ছে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: এবারের সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে?
প্রফেসর ড.তাসনিম সিদ্দিকী: গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এবারের সম্মেলন হবে ফ্রান্সে। এবারের সম্মেলনের একটি অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে,‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন।’ নানা কারণে মানুষ বিদেশে যায়। সাধারণত মানুষ বিদেশে যায় তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন মানুষের আগের সংকটগুলোকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষ তার আবাসন হারিয়ে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ বাড়ি-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তারা বাধ্য হয়ে বাস্তুচুতির কারণে কাজের আশায় বিভিন্ন শহরে-উপশহরে চলে আসছে। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করছেন মাইগ্রেশনকে। পরিবারের কেউ একজন বিদেশে গিয়ে টাকা-পয়সা আয় করে দেশে পাঠাবেন। সেই অর্থ দিয়ে দেশে থাকা পরিবার আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাব। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফোরামে মাইগ্রেশন তেমন একটা আলোচিত হয়নি। কপ-২৭ এর এসে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিবাসন হচ্ছে। অর্থাৎ অভিবাসনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের একটি কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২১৬ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুৎ হবে যদি উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়। প্রতিবেদনে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ৬টি হট স্পট বিবেচনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শুধু দক্ষিণ এশিয়াতে ৪০ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুৎ হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় যে ৪০ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুৎ হবে তার মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই বাস্তুচ্যুৎ হবে ১৯ মিলিয়ন মানুষ। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপযুক্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ৮০ শতাংশ বাস্তুচ্যুতি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে। আর বাস্তুচ্যুতি ঠেকানো গেলে অভিবাসনও কমানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিবাসনকে একত্রিত করে বিবেচনা করতে হচ্ছে। অভিজ্ঞজনরা বলছেন, এখন প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক ফোরামের অভিবাসনকে আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ প্রভাব কমিয়ে আনার একটি পন্থা হচ্ছে অভিবাসন। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাওয়া বন্ধ করার জন্য বৈধভাবে কি করে অভিবাসন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ অভিবাসন একটি বড় ইস্যু হিসেবে চলে আসছে। কারণ যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুৎ হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই গ্রাম থেকে শহরে আসা অথবা এক শহর থেকে আর এক শহরে চলে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংক ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে অভিবাসনের হিসাব দিয়েছে তার বেশির ভাগই হবে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। বিদেশেও অভিবাসন হবে তবে তার পরিমাণ অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম হবে।
দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি: আগামী গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে বাংলাদেশের কি করণীয়?
প্রফেসর ড.তাসনিম সিদ্দিকী: বাংলাদেশ সরকার বাস্তুচ্যুতির উপর একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করেছে। এটি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা একই সঙ্গে একটি অ্যাকশন প্লানও তৈরি করা হয়েছে। এটা তৈরি করেছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় এখন অ্যাকশন প্লানটা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। এই অ্যাকশন প্লানটি হচ্ছে ২০ বছর মেয়াদি। এখন থেকে আগামী ২০ বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে একটি বড় বিষয় হচ্ছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুৎ হচ্ছে বা বাস্তুচ্যুৎ হতে পারে তাদেরকে অভিযোজন এবং পুনর্বাসন করা। বাংলাদেশ সরকারের এখন প্রধান দায়িত্ব হবে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সম্মেলনে এই প্লানটিকে উপস্থাপন করা। অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্লানটি বুঝে নিয়ে গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সম্মেলনে উপস্থাপন করা। সম্মেলনে বলতে হবে, আমরা এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে গেছি। এখন তোমাদের দায়িত্ব হবে আমাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। অর্থায়ন করা যাতে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের জন্য আমরা গৃহায়ন, সুপেয় পানি, কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। একই ভাবে যারা আন্তর্জাতিক অভিবাসী হয়েছেন বা হবেন তাদের যাতে অধিকার সংরক্ষিত হয় তার ব্যবস্থা করা। এখন প্রয়োজন বিশ্বের প্রতিটি দেশের একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা।
Posted ০৯:২২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com