নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৫২১ বার পঠিত
অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল খালেক মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার আব্দুল খালেক মিয়া ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলার অপর দুই আসামি খালেক মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের অর্থ বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সিইও খালেক মিয়া, তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার এবং সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তানভীর ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) লাইসেন্স নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, খালেক মিয়া ২০১৬ সালের ১৯ মে থেকে ২০২২ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সিইও ছিলেন। এ সময়ে তিনি সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের নমিনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য তাঁকে সিগনেটরি মনোনীত করা হয়েছিল। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন ও তদারকির দায়িত্বও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই দায়িত্বের অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে খালেক মিয়ার স্ত্রীর নামে হিসাবে নেয়া হয় ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া কাল্পনিক ব্যক্তির নামে একাধিক ক্যাশ চেক ইস্যু করে অর্থ উত্তোলন এবং সাবেক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়। এসব লেনদেনের মধ্যে কাল্পনিক ব্যক্তির নামে চেক ইস্যু, ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ জমা এবং নগদে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৪ মে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিরীক্ষার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে খালেক মিয়াকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক চিঠি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তারের কাছেও ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের দাবি, এসব বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অর্থ কোম্পানির হিসাবে ফেরত দিতে ২০২৫ সালের ২৫ জুন আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দন্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আদালতে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “আসামিগণ পরস্পর যোগসাজসে কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করায়
বর্তমান ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ১৪/০৫/২০২৫ তারিখে ম্যানেজার অডিটকে অভ্যন্তরীণ অডিট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দিতে বলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী অডিট সম্পন্ন করে ২৯/০৫/২০২৫ তারিখে অডিট প্রতিবেদন প্রদান করিলে আসামীদের কোম্পানীর টাকা আত্মসাতের ঘটনা উন্মোচিত হয়।
৪) যেহেতু অত্র মামলার ১নং আসামী মোঃ আব্দুল খালেক মিয়া গত
১৯/০৫/২০১৬ ইং তারিখ থেকে ১২/০৭/২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর মাদার কোম্পানী সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনকালীন প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর নমিনি পরিচালক ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে পর্ষদ কর্তৃক তাকে এবং সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমাম হোসেনকে কোম্পানীর ব্যাংক হিসাবে পরিচালনার জন্য সিগনেটরি মনোনীত করা হয় এবং মাদার কোম্পানীর পক্ষে যাবতীয় আর্থিক লেনদেনসহ তদারকির দায়িত্ব মোঃ আব্দুল খালেককে ০৫/০৪/২০১৬ ইং তারিখে অর্পণ করা হয়। উক্ত দায়িত্ব প্রদানের প্রেক্ষিতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ, বেআইনী পন্থা অবলম্বন করে কোম্পানীর আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ
আত্মসাত করে ।
৫) যেহেতু ১নং আসামী মোঃ আব্দুল খালেক মিয়া তার স্ত্রী মিসেস পারভীন
আক্তার এর নামে কোম্পানীতে একটি বিও কোড ওপেন করেন, যার নম্বর ০০২৫। উক্ত বিও কোডে তিনি কোন টাকা জমা না করে ৩ নং আসামীর সহিত যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তা ২নং আসামী মিসেস পারভীন আক্তার এর নামে ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ টাকার একটি একাউন্ট পেয়ী চেক বাদীর ব্যাংক হিসাব থেকে চেক নাম্বার- ৮৫৯৩২৩৮ তারিখ ০৭/০২/২০২২ইং ইস্যু ও ২নং আসামীর হিসাবে নগদায়ন করে তা যোগসাজসের মাধ্যমে আত্মসাত করে।
৬) ক) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ ও ৪নং সাক্ষীর মাধ্যমে এবং মঞ্জুর রহমান নামক একজন কাল্পনিক ব্যক্তির নামে চেক নং- ১১৯১৭২৫৩ তারিখ ১৭/০৪/২০১৬ ইং ২,২৫,০০০/- টাকা ক্যাশ চেক ইস্যু করতঃ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করিয়া কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতিসাধন করে ।
খ) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ ও ৪নং সাক্ষীর সহযোগীতায় মঞ্জুর রহমান নামক একজন কাল্পনিক ব্যক্তির নামে চেক নং- ১৩৯২০১০০ তারিখ ০৭/০৪/২০১৭ ইং ১৫,০০,০০০/- টাকা ক্যাশ চেক ইস্যু করতঃ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করিয়া কোম্পানীর আর্থিক ক্ষতিসাধন করে ।
গ) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ ও ৪নং সাক্ষীর সহযোগীতায় মঞ্জুর রহমান নামক একজন কাল্পনিক ব্যক্তির নামে চেক নং- ৫৪৫৪১৮৮ তারিখ ০৪/১১/২০১৮ ইং ৬,৮০,০০০/- টাকা আখি সরকার, চেক নং- ৫৪৫৪১৯৪ তারিখ ২৪/১২/২০১৮ ইং ৫,০০,০০০/- টাকা আখি সরকার, চেক নং- ১৬৮২৭৪০৬ তারিখ১৪/০৮/২০১৮ ইং ১৫,০০,০০০/- টাকা শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৬৮২৭৪২৬ তারিখ ০৪/১০/২০১৮ ইং ৫,০০,০০০/- টাকা শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৬৮২৭৪৩০ তারিখ ১১/১০/২০১৮ ৫,০০,০০০/- শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৫৪৪৫১৮৭ তারিখ ৩১/১০/ ২০১৮ ইং ৮,০০,০০০/- টাকা শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৪৫৫৪১৮৫ তারিখ ২৯/১১/২০১৮ইং ১০,০০,০০০/- টাকা সর্বমোট ৪৪,৮৮,০০০/- টাকা ভূয়া কাল্পনিক ব্যক্তিদ্বয়ের নামে ক্যাশ চেক ইস্যু করতঃ ১নং আসামী উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ করে।
ঘ) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ ও ৪নং সাক্ষীর সহযোগীতায় মঞ্জুর রহমান নামক একজন কাল্পনিক ব্যক্তির নামে চেক নং- ৮০১৬২৭৬ তারিখ ০২/০৪/২০১৯ ইং মঞ্জুর রহমান, চেক নং-৮০১৬২৮০ টাকা ১,৫০,০০০/- টাকা তারিখ ১৬/০৪/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬২৮২ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ২৪/০৪/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬২৯১ টাকা ৩,৫০,০০০/- তারিখ ০৯/০৫/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬২৯৫ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২২/০৫/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩০০ টাকা ৩,০০,০০০/- তারিখ ২৮/০৫/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩০৬ টাকা ২,০০,০০০/- তারিখ ২৫/০৬/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩১৪ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ০২/০৭/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩১৮ টাকা ২,০০,০০০/- তারিখ ১৪/০৭/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩৪৭ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ০৬/১১/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক ৮০১৬৩৫০ টাকা ১৫,০০,০০০/- ১৪/১১/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক ৮০১৬৩৫৬, ১২,০০,০০০/- তারিখ ২১/১১/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, ৮০১৬৩৫৭ টাকা ৫,০০,০০০ তারিখ ২৭/১১/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৫৪৫৪১৯৮ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২৮/০৩/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৫৪৫৪২ টাকা ৩,০০,০০০/- তারিখ ১৭/০৪/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৫৪৫৪২১০ টাকা ২,০০,০০০/- তারিখ ২৯/০৫/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৫৪৫৪২১৫ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ০৯/০৬/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৮৫৯৩১৬১ টাকা ৩,০০,০০০/- তারিখ ৩১/০৭/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১০,০০,০০০/- তারিখ ০৮/০৮/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ১৮৫৯৩১৬৩ টাকা ১৮০১৬২৭১ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ১২/০৩/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৮০১৬২৭২ টাকা ৩,০০,০০০/- তারিখ
২০/০৩/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ০১০৯১০৭ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ১২/১২/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ০১০৯১০৯ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ২৩/১২/২০১৯ মঞ্জুর রহমান, চেক নং- ৬৮২৭৪৫১ টাকা ২,০০,০০০/- তারিখ ০২/০১/২০১৯ আখি রহমান, চেক নং- ৬৮২৭৪৬২ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ
চেক নং- ৬৮২৭৪৫৭ টাকা ২২/০১/২০১৯ আখি রহমান, ২,০০,০০০/- তারিখ ১০/০১/২০১৯ আখি রহমান, চেক নং- ১৮০১৬২৬৪ টাকা ৩,০০,০০০/- তারিখ ১২/০২/২০১৯ আখি রহমান, চেক নং- ১৮০১৬২৬৬ টাকা ৪,০০,০০০/- তারিখ ১৯/০২/২০১৯ আখি রহমান, চেক নং- ৮০১৬৩৩০ ১৭/১০/২০১৯ আখি রহমান
৩,৫০,০০০/- তারিখ ২৮/০৪/২০১ ৮০১৬৩৩১ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ১৩/১০/২০১৯ কাজী কাইজুল
ইসলাম, চেক নং- ২২/১০/২০১৯ কাজী ফাইজুল ইসলাম, চেক নং- ৮০১৬৩৫৮ টাকা ৮০১৬৩৩৭ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২,০০,০০০/- তারিখ ২৭/১১/২০১৯ কাজী ফাইজুল ইসলাম, চেক নং- ১৬৮২৭৪৫৩ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ০৮/০১/২০১৯ শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৬৮২৭৪৬৪ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২৯/০১/২০১৯ শেখ কবির হোসেন, চেক নং- ১৮০১৬২৬৭ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ২৫/০২/২০১৯ শেখ কবির হোসেন সর্বমোট ১,৮৪,১২,০০০/- টাকা ভূয়া কাল্পনিক ব্যক্তিদের নামে ক্যাশ চেক ইস্যু করতঃ ১নং আসামী উত্তোলন পূর্বক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।
ঙ) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩নং আসামী জহিরুল ইসলামের সহিত পরস্পর যোগসাজসে চেক নং- ১৮৫৯৩১৭৩ টাকা ১৫,০০,০০০/- তারিখ ০৬/০১/২০২০, চেক নং ১৮৫৯৩১৭৫ টাকা ৬০,০০০/- তারিখ ২০/০৫/২০২০, চেক নং ১৮৫৯৩১৭ টাকা ১,০০,০০০/- তারিখ ২৬/০৮/২০২০, চেক নং ০১০৯১১৬ টাকা ৫,০০,০০০/- তারিখ ২০/০৫/২০২০, চেক নং ০১০৯১১৮ টাকা ১৫,০০,০০০/- তারিখ ১৫/০১/২০২০, চেক নং ১০৯১১৯ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২০/০১/২০২০, চেক নং ০৪৪৬০৮৯ টাকা ১০,০০,০০০/- তার ১৯/০৮/২০২০ সর্বমোট ৫৬,৬০,০০০/- টাকা ক্যাশ এবং নগদ ইস্যু করতঃ উক্ত টাকা
কোম্পানীর থেকে উত্তোলন পূর্বক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।
চ) যেহেতু ১নং আসামী অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং ৩ নং
আসামী জহিরুল ইসলামের নামে চেক নং- ১১৮৩৪৪০ টাকা ৪,০০,০০০/- তারিখ ২৭/০৪/২০২১, চেক নং ৮৫৯৩৭১৭ টাকা ১,৫০,০০০/- তারিখ ০৭/০৯/২০২১, চেক নং ৮৫৯৩২২৯ টাকা ১,০০,০০০/- তারিখ ১৮/১১/২০২১ এবং আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লুর নামে চেক নং ৮৫৯৩২৩৪ টাকা ১০,০০,০০০/- তারিখ ২৩/১২/২০২১ ক্যাশ চেক ইস্যু করতঃ সর্বমোট ১৬,৫০,০০০/- টাকা কোম্পানীর একাউন্ট থেকে উত্তোলন পূর্বক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করিয়াছে।
ছ) যেহেতু ১নং আসামী ও ৩নং আসামীর নামে চেক নং- ৮৫৯৩২৫০ টাকা ৫০,০০০/- তারিখ ১৩/০৪/২০২২, চেক নং ১৮৫০৭১২ টাকা ১,০০,০০০/- তারিখ ১৬/১০/২০২২ পারভীন আক্তার কাল্পনিক ব্যক্তির নামে ক্যাশ ইস্যু করে চেক নং ৮৫৯৩২৩৮ টাকা ৩০,০০,০০০/- তারিখ ০৯/০২/২০২২, ইস্যু করতঃ ২নং সাক্ষীর মাধ্যমে সর্বমোট ৩১,৫০,০০০/- টাকা পরস্পর যোগসাজসে প্রতারনার মাধ্যমে আত্মসাৎ করিয়া কোম্পানীর আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাক্তির নামে ক্যাশ চেক ইস্যু করতে পারে না ।
৭) যেহেতু কোম্পানীর বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য কোম্পানী কর্তৃক ০১নং আসামী মোঃ খালেক মিয়ার নিকট ২২/১২/২০২৪ইং, ০৫/০১/২০২৫ইং, ১৫/০১/২০২৫ ইং এবং ২৮/০১/২০২৫ইং তারিখে পত্র প্রদান করা হলেও ০১নং আসামী মোঃ আব্দুল খালেক মিয়া সত্য গোপন করে প্রাসঙ্গিক বিষয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের উল্লেখ করে ১২/০১/২০২৫ইং এবং ২১/০১/২০২৫ইং তারিখে কোম্পানী বরাবর
দুটি পত্র প্রদান করেন। কিন্তু তা মনগড়া প্রতীয়মান হওয়ায় কোম্পানীর
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা গৃহীত হয়নি।
৮) যেহেতু ০১নং আসামীর স্ত্রী ০২নং আসামী মিসেস পারভীন আক্তারকে ০৯/১২/২০২৪ইং, ২২/১২/২০২৪ ইং এবং ১৬/০১/২০২৫ইং তারিখে ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ টাকা অনৈতিকভাবে আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য কোম্পানী থেকে পত্র প্রদান করা হলে তিনি এর কোন জবাব প্রদান করেননি। পরবর্তীতে সর্বশেষ তাকে ০৩/০২/২০২৫ইং তারিখে আরও একটি পত্র প্রদান করা হলেও তিনি উক্ত পত্র গ্রহন না করায় তা কোম্পানীতে ফেরত আসে।
৯) যেহেতু ০১নং আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা কোম্পানী কর্তৃক গৃহীত না হওয়ায় এবং ০২নং আসামীর পক্ষ থেকে কোন ব্যাখ্যা প্রদান না করায় বাদী সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে যে, ০১নং আসামী মোঃ আব্দুল খালেক মিয়া এবং ০২নং আসামী মিসেস পারভীন আক্তার যোগসাজসের মাধ্যমে কোম্পানীর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
১০) যেহেতু ০১নং আসামী তার কার্যকালীন সময় অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে বাদী কোম্পানীর কর্মচারীদের প্রলুব্ধ করে। এছাড়াও, অসত্য তথ্য সম্বলিত অডিট প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০১৬ইং সাল থেকে ২০২২ইং সাল পর্যন্ত মনগড়া আর্থিক প্রতিবেদন পর্ষদে দাখিল করেন এবং অডিট ফার্মকে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করেন।
১১) যেহেতু আত্মসাতকৃত মোট (২,২৫,০০০ + ১৫,০০,০০০ + ১,৮৪,১২,০০০ + ৫৬,৬০,০০০ + ১৬,৫০,০০০ + ৩১,৫০,০০০) = ৩,৫৬,৭৭,০০০/- (তিন কোটি ছাপ্পান্ন লক্ষ সাতাত্তুর হাজার) টাকা ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোম্পানীর হিসাবে জমা প্রদান করার জন্য গত ২৫/০৬/২০২৫ইং তারিখে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করা হলেও অদ্যবধি আসামীদ্বয় কোন পদক্ষেপ না নেওয়া আসামীদ্বয় ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/ ৪০৮/ ৪২০ / ৪৬৭/ ৪৬৮/ ৩৪ ধারার অপরাধ করেছেন।”
Posted ০৮:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন