নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৯ বার পঠিত
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বে থাকাকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির যাবতীয় তথ্য এবং নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেসঙ্গে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়ন-সংক্রান্ত নথিও আহ্বান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. জাহিদ কালামের সই করা একটি চিঠি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে দুদক মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঁচ ধরনের তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদের মেয়াদে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির রেকর্ডসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে কৃত বদলির সত্যায়িত অনুলিপি অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া তিনটি নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়নের নথি এবং মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। এসব নথির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্র পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে অনুসন্ধান দল।
এর আগে, বুধবার আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তাঁদের বিরুদ্ধে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলিতে ঘুষ গ্রহণ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্র ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতি-পরবর্তী পছন্দসই পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বুধবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদক মুখপাত্র তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে দুদকের চার সদস্যের তদন্ত দলটি বর্তমানে এই অভিযোগগুলোর সার্বিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
Posted ০৭:০৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com