অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ প্রিন্ট ৩৪ বার পঠিত
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং জ্বালানি অনিশ্চয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়া এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়ন ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ঢাকা চেম্বার নতুন ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই)’ চালু করেছে, যা নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঢাকার অর্থনীতির এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় ৭৬২ জন ব্যবসায়ী ও সেবাখাতের প্রতিনিধির মতামত নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদনে স্থবিরতা তৈরি করছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এসএমই খাতে স্বল্পসুদে ঋণ, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসা-সংক্রান্ত সরকারি সেবায় হয়রানি কমানোর সুপারিশ করা হয়।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গবেষণাটি আপাতত ঢাকা-কেন্দ্রিক হলেও ভবিষ্যতে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা গেলে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। এতে ব্যবসায়ীরা দেশের সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং সহায়ক নীতি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র জানতে এ ধরনের গবেষণা জাতীয় পর্যায়ে পরিচালনা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে সরকার ও বেসরকারি খাতে ব্যয় আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এ খাতে বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
সেমিনারে বক্তারা একমত হন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
Posted ০৫:৪১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com