রবিবার ১৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
অফিস রেখে পাঁচ তারকা হোটেলে বোর্ড সভা

পালিয়ে থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের নিয়ন্ত্রণ

রবিবার, ১৭ মে ২০২৬   প্রিন্ট   ৩২ বার পঠিত

পালিয়ে থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের নিয়ন্ত্রণ

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন। অভিযোগ উঠেছে, পলাতক অবস্থায় থেকেও তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানিটির আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সূত্র জানায়, কোম্পানিটিতে সাঈদ খোকনের সহযোগী হয়ে তার পক্ষে বর্তমানে সব ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইনুল আহসান চৌধুরী ও কোম্পানি সচিব চৌধুরী এহসানুল হক। রাজধানীর পুরানা পল্টনের ডিআর টাওয়ারে কোম্পানিটির প্রায় ১৪ হাজার স্কয়ার ফিটের নিজস্ব অফিস থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বোর্ড সভা আয়োজন করা হচ্ছে পাঁচ তারকা হোটেলে। অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যয় করে মূলত পলাতক চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল নির্দেশনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এসব আয়োজন করা হচ্ছে। সর্বশেষ গতকালও (১৬ মে) রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিনে এমন বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সভাতেও সাঈদ খোকন ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সভা পরিচালনা করেন কোম্পানির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খোকনের অন্যতম সহযোগী মো.   ঈসমাইল নওয়াব। যেখানে কোম্পানিটিতে স্বতন্ত্র পরিচালক মনোনয়ন ও নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই সাঈদ খোকন পলাতক রয়েছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী কোনো বোর্ড সভায় তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। এ ক্ষেত্রে তিন মাসের বেশি সশরীরে উপস্থিত না থাকলে চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারার কথা নয় সাঈদ খোকনের। কিন্তু তিনি এখনো প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন।

সূত্র বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ সিংহভাগ পরিচালকই পলাতক রয়েছেন। এরই মধ্যে যেসব বোর্ড মিটিং হয়েছে তাতে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অনেককেই এসব বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত দেখানো হয় ।

 

এদিকে কোম্পানিটির ছয় উদ্যোক্তা পরিচালকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাঈদ খোকন গোপন স্থানে অবস্থান করে অবৈধভাবে কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএসইসি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান রনি, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিনহাজ বিন সালিম এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে–র ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন। গত বছরের ৯ নভেম্বর গঠিত এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিএসইসিতে অভিযোগকারী ছয় উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন তোফাজ্জেল হোসেন, এম তাজুল ইসলাম, গাজী বেলায়েত হোসেন, আব্দুল হালিম, শায়লা পরভীন ও আসমা নূর।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই ছয়জন স্পন্সর পরিচালককে বোর্ড থেকে অপসারণ করে তাদের জায়গায় নিজের স্ত্রী, দুই মেয়ে, শ্যালিকা এবং নিজস্ব দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। বর্তমানে পারিবারিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে, যারা সম্মিলিতভাবে কোম্পানির প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কোম্পানি আইন, বীমা আইন ও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন। তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আত্মগোপনে থেকে সাঈদ খোকন কোম্পানির সভা পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আর্থিক সুবিধা ভোগ করে চলেছেন, যা করপোরেট গভর্নেন্সের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
অভিযোগে কোম্পানিটির সচিব, পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধেও চেয়ারম্যানের একতরফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছামতো সিইও, সিএফও ও কোম্পানি সচিব নিয়োগ বা অপসারণ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো পরিচালক আপত্তি তুললেই তাকে বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো বলে দাবি সাবেক পরিচালকদের।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে চলমান অনিয়ম দেশের বীমা খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, অন্যায়ভাবে অপসারিত পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত করপোরেট গভর্নেন্স ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box

Posted ০১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com