অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৩ বার পঠিত
মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির আগের পূর্বাভাসের তুলনায় নতুন এ প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হয়েছে এবং ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
এর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আইএমএফের সর্বশেষ প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ দুই সংস্থার পূর্বাভাসের চেয়েও কম হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভার সাইডলাইনে তিনি বিশেষ করে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আইএমএফের নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক উরজিৎ প্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ের্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা ধরে রেখেছে। তবে এ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ এ ক্ষতির কিছুটা প্রভাব সামাল দিতে সহায়তা করছে।
এদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির নিম্নমুখী ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিনিয়োগ ও প্রত্যাশার পুনর্মূল্যায়নও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে ইতিবাচক সম্ভাবনাও রয়েছে। এআই খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যব্যবস্থার উন্নতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি নীতিগত অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত রাখা।
বাংলাদেশের জন্যও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী পূর্বাভাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো, মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণকে নীতিনির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব বজায় রেখে অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়াও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Posted ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com