সোমবার ৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
১৫ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি

নিরীক্ষা হলেও পদক্ষেপ নেই

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬   প্রিন্ট   ১৪ বার পঠিত

নিরীক্ষা হলেও পদক্ষেপ নেই

দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৬ টি কোম্পানির মধ্যে ১৫ টি কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে গত বছরের জুনে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কার্যাদেশ গ্রহণের এক মাসের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদনও জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ বকেয়া বীমা দাবি এবং বিভিন্ন অনিয়ম সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে কোম্পানিগুলোর ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর এই বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অডিট ফার্মগুলো প্রতিবেদন দাখিলের পর আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে তা পর্যালোচনা করে কোম্পানিগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলো সম্পর্কে কী তথ্য উঠে এসেছে তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি কোম্পানিগুলোর অনিয়ম ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে তা কাটিয়ে উঠতে কোনো নির্দেশনাও দেয়া হয়নি আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে। যদিও এই অডিট পরিচালনা করতে প্রতিটি কোম্পানিকে ফি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে ৯ লাখ টাকা করে। তবে ১০ মাসেও এসব কোম্পানির প্রকৃত চিত্র গ্রাহকরা জানতে পারেনি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত ১৪ টি কোম্পানির অডিট রিপোর্ট ফার্মগুলো জমা দিলেও, এখনো তা মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে পারেনি আইডিআরএ। যদিও কয়েকটি কোম্পানির কাছে তাদের অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে অডিট ফার্মগুলোকে মোটা অংকের ফি দিয়ে এই বিশেষ অডিট করানোর দীর্ঘ ১০ মাস পরেও চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং পদক্ষেপ না নিতে পারা, মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ’র ব্যর্থতাই প্রকাশ পায়। যদি এত দিনেও কোম্পানিগুলোর দুর্বলতা এবং অনিয়মের উৎস চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ না নেয়া যায়, তাহলে এ অডিট করে আদৌ গ্রাহক বা বীমা খাতের কোনো লাভ হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

যদিও আইডিআরএ’র শীর্ষ কর্মকর্তারা লোকবল সংকটকে এই দেরির কারণ হিসেবে দাবি করেছেন।

বিশেষ নিরীক্ষা সাধারণ নিরীক্ষার চেয়ে ভিন্ন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সমস্যা বা ঝুঁকির ক্ষেত্রগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। কোনো কোম্পানির আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা দাবি নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে সে বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। যেসব কোম্পানিতে আইডিআরএ বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করেছে এরমধ্যে রয়েছে-সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, বীমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান, লাইফ ফান্ড ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিরূপণ, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বিশ্লেষণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আইন ও বিধি-বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যের বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্রমের বিশ্লেষণ এবং অন্তত তিনটি শাখা বা সার্ভিস সেন্টারের পৃথক আর্থিক ও সেবাগত মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অডিটের টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, দাবি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ কার্যক্রম, লাইফ ফান্ড, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখার কথা ছিল নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

তবে দীর্ঘ সময়েও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায়, এই বিশেষ নিরীক্ষা থেকে বীমা খাত বা গ্রাহকরা আদৌ কতটা উপকৃত হয়েছে-তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৯:০৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com