অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৭ বার পঠিত
বৈশ্বিক পোশাকের বাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আর এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগোতে হবে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। গত পাঁচ থেকে সাত বছর আগের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের মতো শক্তিশালী নয়। বিশেষ করে নতুন বাজার ও সরবরাহের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও এগোতে পারত।
চীন থেকে পোশাক আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর পর ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো নতুন সোর্সিংয়ের সুযোগ পেয়েছে। তবে বাংলাদেশ সেই পরিবর্তন থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারেনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে সীমিত বিপণন কার্যক্রম ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করছে।
শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি এখন জ্বালানি নিরাপত্তা। সময়মতো ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদে স্থানীয় ও আমদানি করা জ্বালানির মধ্যে ভারসাম্য রাখার পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ নিয়েও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তি, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অটোমেশন পণ্যের মান ও উৎপাদনের গতি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি অফিসের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
টেকসই উৎপাদনেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কাপড় পুনর্ব্যবহারের মতো উদ্যোগ বাড়ছে। উর্মি গ্রুপের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রথম গ্রুপ হিসেবে SBTi-অনুমোদিত ডিকার্বনাইজেশন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০১৭ সালের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি ৩৪ শতাংশ জ্বালানি দক্ষতা এবং ৩০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাসের তীব্রতা কমিয়েছে। পাশাপাশি ৬ দশমিক ৫২ মেগাওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৮ দশমিক ১৮ মেগাওয়াট-পিকে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বিনিয়োগের বিপরীতে ক্রেতাদের কাছ থেকে যথাযথ মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে শিল্পটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (DPP)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পণ্যের স্থায়িত্ব ও পরিবেশগত তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই টেকসই উৎপাদনকে শুধু ব্যয় নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এর যথাযথ বাজারমূল্য নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণও পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। ২০২৬ সালে উত্তরণ হোক বা ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হোক—কম সুরক্ষিত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে FTA, CEPA ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা এবং জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দশকে পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন পণ্য উন্নয়নেও আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাজারের পরিবর্তন আগে থেকে বুঝে দ্রুত নতুন পণ্য তৈরি, উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পারার সক্ষমতা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের পোশাক খাতের দীর্ঘদিনের শক্তি হলো ব্যয়-সাশ্রয়ী উৎপাদন, বড় পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সরবরাহব্যবস্থা। এসব শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি দ্রুত সরবরাহ, নমনীয়তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ কারখানা ব্যবস্থাপনার দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং কম মূল্য সংযোজনের সুযোগ থেকে বেরিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য ও নতুন বাজারের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
Posted ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com