অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ০২ জুন ২০২৫ প্রিন্ট ৪৮৯ বার পঠিত
এবারের বাজেটেও উপেক্ষিত থেকে গেছে দেশের বীমা খাত। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।
মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি গ্রহণসহ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বাজেটে বীমা খাত নিয়ে কিছুই বলা হয়নি।
এমনকি কর্পোরেট কর হারসহ বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর যেসব দাবি করে আসছে বীমা কোম্পানিগুলো তার বাস্তবায়নও নেই এবারের বাজেটে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে বীমা খাতের কর্পোরেট কর হ্রাস এবং কিছু বীমা পণ্যের উপরে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)।
এ ব্যাপারে ১৫টি প্রস্তাবসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এক চিঠিও দেয় সংগঠনটি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর হার ৩৭.৫ শতাংশ, যা ইন্স্যুরেন্স খাতের জন্য অযৌক্তিক। ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ইন্স্যুরেন্সের চেয়ে ব্যাপক হলেও, তাদের কর হার সমান হওয়ায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো সমস্যা অনুভব করছে। তাই অন্যান্য সেবা খাতের মতো কর্পোরেট কর হার নির্ধারণের দাবি করা হয়।
জানতে চাইলে বিআইএ’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজিম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতির অন্যতম খাত-বীমার কল্যাণে ন্যূনতম পদক্ষেপ নেই। আমরা হতাশ হয়েছি। এই খাতটি অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। দেশের বীমা খাতের কল্যাণে আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।
এনবিআরকে দেয়া বিআইএ’র চিঠিতে কর্পোরেট কর হার হ্রাস করা, কৃষি বীমা, গবাদিপশু বীমা, বিভিন্ন ধরনের শস্য বীমা, উদ্ভাবনী বীমা, নতুন সামাজিক বীমা পণ্যসহ অনলাইন ভিত্তিক বীমা প্রিমিয়ামের উপর মূল্য সংযোজন কর ও কর্পোরেট কর রহিত করার বিষয় তুলে ধরা হয়।
কর্পোরেট কর হার হ্রাস করার বিষয়ে বলা হয়, আয়কর আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ব্যাংক, ইন্স্যরেন্স এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংকের আয় ও ব্যবসায়ের পরিধি ইন্স্যুরেন্সের চাইতে অনেক বেশি তারপরও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর হার ব্যাংকের সমান। এছাড়া, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ অথবা তার চেয়ে কম হারে কর প্রদান করে থাকে যদিও তাদের ব্যবসায়ের ক্ষেত্র ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চাইতে বেশি। কিন্তু ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায় ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করতে পারেনি। তাই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মত বিবেচনা করে কর্পোরেট কর হার ব্যাংকিং কোম্পানির মত সমান না রেখে অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মত কর হার নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করা হলো।
কৃষি বীমা, গবাদিপশু বীমা, বিভিন্ন ধরনের শস্য বীমা প্রিমিয়ামের উপর মূল্য সংযোজন কর ও কর্পোরেট কর রহিত করার বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি খাতের ভূমিকা অপরিসীমা কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই খাত ক্রমাগত বিপন্ন হচ্ছে যার ফলে কৃষিকাজে কৃষকদের অনীহা দিন দিন বাড়ছে। তাই কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা অপরিহার্য। এই জন্য কৃষি বীমার উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য কৃষি বীমা, গবাদিপশু বীমা, বিভিন্ন ধরনের শস্য বীমা প্রিমিয়ামের উপর মূল্য সংযোজন কর এবং এই বীমা পরিকল্প হতে অর্জিত মুনাফার উপর কর্পোরেট কর রহিত করার জন্য প্রস্তাব করা হলো।
এছাড়া, অনলাইন ভিত্তিক বীমা প্রিমিয়ামের উপর মূল্য সংযোজন কর ও কর্পোরেট কর রহিত করার বিষয়ে বলা হয়, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বীমা শিল্প ও সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন পলিসি ইস্যু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যা গ্রাহকদেরকে সর্বোচ্চ বীমা সেবা প্রদানের পথকে সুগম করবে। ডিজিটাল সেবা এবং ইন্স্যুরটেকের মাধ্যমে ইস্যু করা বীমা পলিসি হতে অর্জিত প্রিমিয়ামের উপর মূল্য সংযোজন কর এবং পলিসি প্রিমিয়াম হতে অর্জিত মুনাফার কর্পোরেট কর রহিত করার প্রস্তাব করা হলো।
চিঠিতে উদ্ভাবনী বীমা ও নতুন সামাজিক বীমা পণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর এবং কর্পোরেট কর রহিত করার বিষয়ে বলা হয়, উদ্ভাবনী বীমা ও নতুন সামাজিক বীমা পরিকল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের জীবন যাত্রার মানের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। যে দেশ অর্থনৈতিকভাবে যত উন্নত তাদের জীবনযাত্রার মানও তত উন্নত আর এই উন্নয়নে বীমার অবদান অনেক বেশি। আর একটি দেশের সামাজিক মূল্যবোধ এবং সচেতনতার অভাবই এই শিল্পের বিকাশে মূল বাধা। তাই বীমা শিল্পের বিকাশে উদ্ভাবনী বীমা ও নতুন সামাজিক বীমা পণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর এবং কর্পোরেট কর রহিত করার প্রস্তাব করা হলো।
এছাড়াও, নন-লাইফ বীমার অন্তর্ভুক্ত সকল শ্রেণির নৌ-কার্গো, নৌ-হাল, বিবিধ বীমাসহ বীমা সেবার বিপরীতে পুনঃবীমাকারীকে সকল প্রিমিয়ামের উপর মুসক চার্জ অব্যাহতি, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়কে আয় হিসাবে গণ্য না করে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাক্ট অনুসারে লভ্যাংশের উপর কর নির্ধারণ করা, পুনঃবীমা করার সময় পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের উপর প্রাপ্য কমিশনের উপর নতুন করে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ রহিত, বৈদেশিক পুনঃবীমা প্রিমিয়ামের উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর রহিত, স্বাস্থ্য বীমার প্রসারে এর ওপর ট্যাক্স রহিত ও বীমা এজেন্টদের কমিশন আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন থেকে অব্যাহতি প্রদানে প্রস্তাব করে বিআইএ।#
Posted ০৯:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০২ জুন ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com