|

Advertisement
×

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ মুদ্রা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৪৪ বার পঠিত

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ মুদ্রা

বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি—আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ডলারের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে একক মুদ্রার বিনিময়মূল্যের বিচারে ডলার বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুদ্রা নয়। কুয়েতি দিনার, বাহরাইনি দিনার ও ওমানি রিয়ালের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুদ্রা এক ডলারের চেয়েও বেশি মূল্যমান ধরে রেখেছে।

এখানে ‘শক্তিশালী’ বলতে একটি মুদ্রার এক একক দিয়ে কত মার্কিন ডলার পাওয়া যায়, সেই বিনিময়মূল্য বোঝানো হয়েছে। এটি কোনো দেশের অর্থনীতির আকার, নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা কিংবা মুদ্রাটির আন্তর্জাতিক ব্যবহারের পরিমাণের র‌্যাঙ্কিং নয়। বিনিময় হার প্রতিদিন ওঠানামা করে। নিচের তালিকাটি ২০২৬ সালের প্রকাশিত বিনিময়-হারভিত্তিক তালিকা অনুসারে সাজানো।

১. কুয়েতি দিনার: একক বিনিময়মূল্যের বিচারে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে কুয়েতি দিনার। ২০২৬ সালের প্রকাশিত তালিকায় এক কুয়েতি দিনারের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার (৩৯৬.০৬ টাকা) দেখানো হয়েছে। কুয়েতের অর্থনীতিতে জ্বালানি তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশটির মুদ্রানীতি পরিচালিত হয় বৈদেশিক মুদ্রার একটি ঝুড়ির বিপরীতে নিয়ন্ত্রিত বিনিময়ব্যবস্থার মাধ্যমে। ফলে দিনারের মূল্য শুধু ডলারের সঙ্গে সরাসরি স্থির করে রাখা নয়; একাধিক মুদ্রার গতিবিধিও এতে বিবেচিত হয়।

২. বাহরাইনি দিনার: তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাহরাইনি দিনার। এক দিনারের বিনিময়মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৬৫ মার্কিন ডলার (৩২৬ টাকা)। বাহরাইনের মুদ্রা মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে সংযুক্ত। দেশটির অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি আর্থিক সেবা, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা রয়েছে। ডলারের সঙ্গে স্থির বিনিময়হার বজায় রাখার নীতি মুদ্রাটির মূল্যকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

৩. ওমানি রিয়াল: তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওমানি রিয়াল। এক রিয়ালের মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার (৩১৯.৮০ টাকা)। ওমানের মুদ্রাও ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট বিনিময়হারে যুক্ত। দেশটির অর্থনীতিতে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বন্দর, পরিবহন, পর্যটন ও শিল্প খাতের গুরুত্ব রয়েছে। উচ্চ একক বিনিময়মূল্য থাকা মানেই অবশ্য মুদ্রাটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—এমন নয়; আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার ও একক মূল্যমান আলাদা বিষয়।

৪. জর্ডানীয় দিনার: চতুর্থ স্থানে রয়েছে জর্ডানীয় দিনার। এক দিনারের বিনিময়মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার (১৭৩.৪৩ টাকা)। জর্ডানের মুদ্রা ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে সংযুক্ত। দেশটির অর্থনীতি পর্যটন, সেবা, ওষুধশিল্প, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মুদ্রার বিনিময়মূল্য ধরে রাখতে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট বিনিময়হার নীতি অনুসরণ করছে।

৫. ব্রিটিশ পাউন্ড: ব্রিটিশ পাউন্ড তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। প্রকাশিত ২০২৬ সালের তালিকায় এক পাউন্ডের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩২ মার্কিন ডলার (১৬২.৩৬ টাকা)। কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানের মুদ্রার বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময়হার বাজারে ওঠানামা করে। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাত এবং লন্ডনের আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পাউন্ডকে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ করেছে। তবে উচ্চ বিনিময়মূল্য দিয়ে মুদ্রার ভবিষ্যৎ শক্তি নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না।

৬. জিব্রাল্টার পাউন্ড: ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে জিব্রাল্টার পাউন্ড। এর মূল্য ব্রিটিশ পাউন্ডের সঙ্গে একের বিপরীতে এক হারে নির্ধারিত (৩১৯ টাকা প্রায়)। ফলে পাউন্ডের বিনিময়মূল্য পরিবর্তিত হলে জিব্রাল্টার পাউন্ডের ডলারমূল্যও সাধারণত একইভাবে পরিবর্তিত হয়। জিব্রাল্টার ব্রিটিশ শাসনাধীন একটি অঞ্চল; সেখানে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলিত থাকলেও ব্রিটিশ পাউন্ডও ব্যবহৃত হয়। এই মুদ্রার অবস্থান দেখায়, বিনিময়মূল্য নির্ধারণে মুদ্রানীতির পাশাপাশি অন্য মুদ্রার সঙ্গে স্থির সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

৭. সুইস ফ্রাঁ: সুইস ফ্রাঁ রয়েছে সপ্তম স্থানে। এক ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ২৩ মার্কিন ডলার (১৫১.২৯ টাকা)। সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে ফ্রাঁকে অনেক বিনিয়োগকারী অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এর বিনিময়মূল্য বাজারের চাহিদা, সুদের হার ও সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাবে পরিবর্তিত হয়।

৮. কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের ডলার: অষ্টম স্থানে রয়েছে কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের ডলার। এক ‘কেইম্যান’ ডলারের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার (১৪৭.৬০ টাকা)। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই ব্রিটিশ অধীনস্থ অঞ্চলের মুদ্রা মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে যুক্ত। কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবা ও পর্যটনের জন্য পরিচিত। এর মুদ্রার তুলনামূলক উচ্চ মূল্য মূলত ডলারের সঙ্গে নির্ধারিত বিনিময়সম্পর্কের প্রতিফলন।

৯. ইউরো: নবম স্থানে রয়েছে ইউরো, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশের অভিন্ন মুদ্রা। প্রকাশিত তালিকায় এক ইউরোর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১৩ মার্কিন ডলার (১৪০ প্রায় টাকা)। ইউরো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আর্থিক লেনদেনে বহুল ব্যবহৃত। এর মূল্য ডলারের বিপরীতে বাজারে ওঠানামা করে এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়।

১০. মার্কিন ডলার: তালিকার দশম স্থানে রয়েছে মার্কিন ডলার—যার একক মূল্য স্বাভাবিকভাবেই এক ডলার (১২৩ টাকা)। বিনিময়মূল্যের তালিকায় এটি শীর্ষে না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ডলারের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে ‘সবচেয়ে দামি মুদ্রা’ এবং ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বা বহুল ব্যবহৃত মুদ্রা’ এক বিষয় নয়। ডলারের ভূমিকা বুঝতে হলে একক বিনিময়মূল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনে এর ব্যবহারও বিবেচনা করতে হয়।

বিশ্বের মুদ্রাগুলোর এই তালিকা মূলত বিনিময়মূল্যের একটি তুলনামাত্র। কোনো মুদ্রার একক মূল্য বেশি হলেই সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি বড়, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উঁচু কিংবা বিনিয়োগের ঝুঁকি কম—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মুদ্রার প্রকৃত অবস্থান বুঝতে বিনিময়হার, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবহারের মতো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com