|

Advertisement
×

পর্যটনে আয়কারী শীর্ষ ১০ দেশ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

পর্যটনে আয়কারী শীর্ষ ১০ দেশ

একসময় পর্যটনকে দেখা হতো মানুষের অবসর বিনোদনের একটি মাধ্যম হিসেবে। এখন সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। পর্যটন বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ, আবাসন, খাবার, কেনাকাটা, বিনোদন ও পরিবহন ব্যয় থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বিভিন্ন দেশ। কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন সরাসরি কর্মসংস্থান ও ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় বা বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে অর্জিত মোট আয় বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও চীন। এসব দেশের পর্যটন সাফল্যের পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প—কোথাও ইতিহাস ও সংস্কৃতি, কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবার কোথাও আধুনিক নগরজীবন ও বিলাসী পর্যটন।

২১৫ বিলিয়ন ডলারে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র:
পর্যটন থেকে আয়ে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় প্রায় ২১৫ বিলিয়ন ডলার। বিশাল ভৌগোলিক পরিসর এবং বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবস্থান দিয়েছে।

নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী ভবন ও ব্যস্ত নগরজীবন, লাস ভেগাসের বিনোদন, অরল্যান্ডোর থিম পার্ক, মায়ামির সৈকত কিংবা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো প্রাকৃতিক বিস্ময়—সব মিলিয়ে দেশটিতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। ব্যবসায়িক ভ্রমণও দেশটির পর্যটন অর্থনীতির বড় অংশ।

স্পেনের আয় ১০৬.৫ বিলিয়ন ডলার:
প্রায় ১০৬.৫ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে স্পেন। ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন গন্তব্যের বড় শক্তি এর সমুদ্রসৈকত, ঐতিহাসিক শহর, খাবার ও সংস্কৃতি।

বার্সেলোনা, মাদ্রিদ, সেভিয়া, মায়োর্কা কিংবা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ—প্রতিটি গন্তব্যের রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সহজ যোগাযোগ এবং উষ্ণ আবহাওয়াও স্পেনকে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করেছে।

ইতিহাস ও সংস্কৃতির শক্তিতে যুক্তরাজ্য:

প্রায় ৮৪.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যটন আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্য। দেশটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লন্ডন। ব্রিটিশ মিউজিয়াম, বাকিংহাম প্যালেস, লন্ডন আইসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণ করে।

তবে পর্যটন শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক নয়। স্কটল্যান্ডের পাহাড় ও দুর্গ, ওয়েলসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক স্থাপনাও যুক্তরাজ্যের পর্যটন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফ্রান্সে পর্যটনের সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন:
প্রায় ৭৭.১ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে তালিকায় চতুর্থ ফ্রান্স। দেশটির পর্যটনকে শুধু দর্শনীয় স্থান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। শিল্প, সাহিত্য, ফ্যাশন, খাবার, স্থাপত্য ও জীবনযাপন—সবকিছুর সমন্বয় ফ্রান্সকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

প্যারিসের আইফেল টাওয়ার ও লুভর জাদুঘর থেকে শুরু করে ফরাসি রিভিয়েরার সমুদ্রতট এবং আল্পসের পাহাড়—বিভিন্ন ধরনের পর্যটন অভিজ্ঞতা এখানে পাওয়া যায়। বিলাসবহুল কেনাকাটা ও বিশ্বখ্যাত খাবারও পর্যটকদের ব্যয়ের বড় ক্ষেত্র।

ইতালিতে ইতিহাস যেন জীবন্ত:
প্রায় ৫৮.৭ বিলিয়ন ডলার পর্যটন আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে ইতালি। দেশটির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

রোমের প্রাচীন স্থাপনা, ভেনিসের খাল, ফ্লোরেন্সের রেনেসাঁ শিল্পকর্ম এবং মিলানের ফ্যাশন—সবকিছু মিলিয়ে ইতালি পর্যটকদের জন্য যেন এক বিশাল জীবন্ত জাদুঘর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইতালীয় খাবার, ওয়াইন ও স্থানীয় জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা।

মরুভূমিতে তৈরি বিলাসী পর্যটন:
প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে দেশটি মরুভূমির অর্থনীতি থেকে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

দুবাইয়ের সুউচ্চ ভবন, বিলাসবহুল হোটেল, বিশাল শপিং মল, কৃত্রিম দ্বীপ, বিনোদনকেন্দ্র এবং আবুধাবির আধুনিক স্থাপত্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক সম্মেলন ও কেনাকাটাকেন্দ্রিক ভ্রমণও আমিরাতের পর্যটন আয় বাড়াচ্ছে।

তুরস্কে একসঙ্গে দুই মহাদেশের আকর্ষণ:
প্রায় ৫৬.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যটন আয় নিয়ে তুরস্ক সপ্তম। দেশটির বিশেষত্ব হলো ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান।

ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক স্থাপনা, বসফরাস প্রণালি, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল এবং কাপ্পাদোকিয়ার অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। উসমানীয় ও অন্যান্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বয় তুরস্ককে শক্তিশালী পর্যটন বাজারে পরিণত করেছে।

জাপানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সহাবস্থান:
প্রায় ৫৪.৭ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে জাপান রয়েছে অষ্টম অবস্থানে। টোকিওর প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবন, কিয়োটোর প্রাচীন মন্দির, মাউন্ট ফুজি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জাপানি সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে দেশটির পর্যটন অভিজ্ঞতা অন্যদের থেকে আলাদা।

দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পরিবহনব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটনসেবার বৈচিত্র্যও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে ভূমিকা রাখে।

অস্ট্রেলিয়ার বড় সম্পদ প্রকৃতি:
প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে নবম অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পর্যটন শিল্পের মূল শক্তি বিস্তৃত প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।

সিডনি অপেরা হাউসের মতো স্থাপনা যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ করে, তেমনি গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, সমুদ্রসৈকত, বন্যপ্রাণী ও বিস্তৃত প্রাকৃতিক অঞ্চল তৈরি করেছে ভিন্ন ধরনের পর্যটন বাজার। প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক ভ্রমণের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

চীনের পর্যটন বাজারের ব্যাপ্তি বিশাল:
প্রায় ৪০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় নিয়ে দশম অবস্থানে চীন। গ্রেট ওয়াল, নিষিদ্ধ নগরী, প্রাচীন মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশাপাশি সাংহাই ও বেইজিংয়ের মতো আধুনিক নগরও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাজারও দেশটির সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।

পর্যটন শুধু ভ্রমণ নয়, বড় অর্থনীতি

শীর্ষ দেশগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকলেই পর্যটন থেকে বড় আয় নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, আবাসন, বিনোদন, বিপণন এবং পর্যটকদের ব্যয় করার সুযোগ।

পর্যটক একটি দেশে পৌঁছানোর পর শুধু হোটেলেই অর্থ ব্যয় করেন না। বিমান ও স্থল পরিবহন, রেস্তোরাঁ, কেনাকাটা, জাদুঘর, বিনোদনকেন্দ্র, স্থানীয় কারুশিল্প, গাইড ও বিভিন্ন সেবার সঙ্গে তার ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে একজন বিদেশি পর্যটকের ব্যয় অর্থনীতির একাধিক খাতে ছড়িয়ে পড়ে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com