|

Advertisement
×
৪৫ নন-লাইফ কোম্পানির চিত্র : বিনিয়োগ আছে ৮৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের কমও

সম্পদের তুলনায় বিনিয়োগে বড় পার্থক্য

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ২৭৩ বার পঠিত

সম্পদের তুলনায় বিনিয়োগে বড় পার্থক্য

নন-লাইফ বীমা খাতে কোম্পানিগুলোর মোট সম্পদের তুলনায় বিনিয়োগের হারে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে ৪৫টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো কোনো কোম্পানি তাদের মোট সম্পদের ৮০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আবার কয়েকটি কোম্পানির ক্ষেত্রে এ হার ১০ শতাংশের নিচে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রথম প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫টি কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ হাজার ৭২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদের প্রায় ৫৬.৩১ শতাংশ বিনিয়োগে রয়েছে।

তবে কোম্পানিভিত্তিক চিত্রে এই গড় হারের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়।

সম্পদের তুলনায় বিনিয়োগের হারে শীর্ষে রয়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির মোট সম্পদ ২৭৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ২৩২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ফলে বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫.১০ শতাংশে।

এর পরেই রয়েছে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, যার সম্পদ ১৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ১৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটির বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত ৮২.৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে এ হার ৮১.৮৪ শতাংশ। কোম্পানিটির সম্পদ ৩০২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ২৪৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সে ৮০.৪৭ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সে ৭৭.০১ শতাংশ, সিকদার ইন্স্যুরেন্সে ৭৬.৮০ শতাংশ এবং সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সে ৭৩.২৫ শতাংশ , মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের ৭৩.০০ শতাংশ , পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৭২.৩৯ শতাংশ। সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৭১.৯৭ শতাংশ সম্পদ বিনিয়োগে রয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নর্দার্ন ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ৬৮.৮০ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ৬৮.৩১ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) ৬৭.৬৫ শতাংশ সম্পদ বিনিয়োগে রয়েছে।

বড় সম্পদের কোম্পানিতেও বিনিয়োগের হার এক নয়:

নন-লাইফ খাতের সবচেয়ে বড় সম্পদধারী প্রতিষ্ঠান এসবিসির মোট সম্পদ ৮ হাজার ১১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিনিয়োগ ৫ হাজার ৪৯১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদের প্রায় ৬৭.৬৫ শতাংশ বিনিয়োগে রয়েছে।

বেসরকারি খাতের বড় সম্পদধারী গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের সম্পদ ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ৬৯০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত ৪৩.৪৬ শতাংশ।আর রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের সম্পদ এক হাজার ৫৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা হলেও বিনিয়োগ ৪৯১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফলে অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৪ শতাংশে।

অর্থাৎ বড় সম্পদের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও সম্পদের কত অংশ বিনিয়োগে রাখা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

৫০ শতাংশের নিচে বিনিয়োগ ১৮ কোম্পানির

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৯টির বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত ৫০ শতাংশের নিচে।

এ তালিকায় রয়েছে গ্রিন ডেল্টা, প্রভাতী, জনতা, দেশ জেনারেল, অগ্রণী, রূপালী, কন্টিনেন্টাল, পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স, প্রাইম ইসলামি, রিপাবলিক, ইস্টল্যান্ড, নিটল, ফেডারেল, ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ও সাউথ এশিয়াসহ কয়েকটি কোম্পানি।

এর মধ্যে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত ২০.০২ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্সের ২৬.৬৫ শতাংশ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ২৭.৮৫ শতাংশ এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের ২৮.৯৯ শতাংশ।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সম্পদ ৬৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা হলেও বিনিয়োগ ২১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ফলে বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত মাত্র ৩১.৮৫ শতাংশ।

সর্বনিম্ন সাউথ এশিয়া ও কো-অপারেটিভে

সম্পদের তুলনায় সবচেয়ে কম বিনিয়োগ রয়েছে সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে। কোম্পানিটির মোট সম্পদ ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, বিপরীতে বিনিয়োগ মাত্র ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাত প্রায় ০.২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের সম্পদ ৭৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ২ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে অনুপাত ২.৯৫ শতাংশ।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের সম্পদ ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ ১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা; অনুপাত ৯.৬৭ শতাংশ।

কী বলছে এই হিসাব:

৪৫টি কোম্পানির সম্মিলিত হিসাবে সম্পদের প্রায় ৫৬.৩১ শতাংশ বিনিয়োগে থাকলেও কোম্পানিভেদে অনুপাতটি ০.২৫ শতাংশ থেকে ৮৫.১০ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ একই নন-লাইফ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর সম্পদ ব্যবহারের কাঠামোয় বড় পার্থক্য রয়েছে।

তবে শুধু বেশি বিনিয়োগ-সম্পদ অনুপাতকে সরাসরি বেশি আর্থিক শক্তি বা কম অনুপাতকে দুর্বলতার নির্দেশক হিসেবে দেখা যায় না। বিনিয়োগের ধরন, সম্পদের তারল্য, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, প্রকৃতি এবং নিয়ন্ত্রক বিনিয়োগ-সীমা বিবেচনায় নিয়েই কোম্পানির আর্থিক অবস্থান মূল্যায়ন হয়।#

 

Facebook Comments Box

Posted ০৭:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com