|

Advertisement
×
বিজিএমইএ-এলপিপির যৌথ বিবৃতি

ব্যবসায়িক সম্পর্ক ঠিক রাখতে বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়ানোর আহ্বান

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ৫ বার পঠিত

ব্যবসায়িক সম্পর্ক ঠিক রাখতে বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়ানোর আহ্বান

রাশিয়ান এফইএস রিটেইলের ইনভয়েস-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে রপ্তানি অর্থ পরিশোধ না করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক কারখানাগুলোর দায়-দেনা আইনগতভাবে দায়বদ্ধ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গেই নিষ্পত্তির ব্যাপারে একমত হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপি।

 

একই সঙ্গে, সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের বিরোধের প্রভাব যেন পুরো পোশাকখাত ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে না পড়ে, সেজন্য বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে উভয় পক্ষ।

এ বিরোধের সূত্রপাত রাশিয়ার কোম্পানি এফইএস রিটেইলের কাছে প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি সরবরাহকারীর আনুমানিক চার কোটি ডলার পাওনা রপ্তানি অর্থ পরিশোধ না হওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, রাশিয়ার ওই ক্রেতার সঙ্গে চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে এলপিপির ঢাকার কার্যালয় মধ্যস্থতা বা সহায়তা করেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও এলপিপির ডিরেক্টর (পারচেজিং অ্যান্ড ইএসজি) ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর পাওনা-দেনা সংশ্লিষ্ট আইনগতভাবে দায়বদ্ধ পক্ষের সঙ্গেই নিষ্পত্তি করা উচিত।

এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রকাশ্যে আলোচিত বিষয়টি চুক্তিবদ্ধ ও ইনভয়েস-সংক্রান্ত কিছু বকেয়া দায়ের দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে এলপিপি কোনো দেনাদার বা অর্থ পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য থাকা পক্ষ নয়। এলপিপি নিশ্চিত করছে যে, তারা বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাবতীয় দায়-দেনা নিয়মিতভাবে এবং প্রযোজ্য চুক্তির শর্তানুসারে মেটায়।

বিজিএমইএ এলপিপির এ অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে যে, উক্ত দাবিগুলো সেই সব প্রতিষ্ঠানের কাছে উপস্থাপন করা উচিত, যারা এ-সংক্রান্ত দায়ে আবদ্ধ। উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন এবং তারা এ বিষয়ে একমত যে, এসব দায়-দেনা নিষ্পত্তির যে কোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত। এতে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।

এলপিপি আরও নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। এ পর্যালোচনাটি প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছিল না এবং এটি এলপিপির নিজস্ব সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।

বিজিএমইএ এবং এলপিপি সম্মত হয়েছে যে, এলপিপির সঙ্গে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারকসহ সমগ্র বাংলাদেশের পোশাকখাতের স্বার্থ যেন সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তাই উভয় পক্ষ মনে করে, ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী বা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যে কোনো অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এটি আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন না করে এবং আইনিভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকার সীমাবদ্ধ না রেখে দেওয়া হলো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজিএমইএ এবং এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের পোশাকখাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। চলমান এ বিষয়টির একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখতে উভয় প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৩:৪০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com