নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
কয়েকদিন আগে বিশ্বব্যাপী ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)। একই সঙ্গে আরও সাড়ে ৩ হাজার পদ আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বিএটি বাংলাদেশ বছর দুই আগেই আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নিযুক্ত হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করে পর্যায়ক্রমে। এখন আবারও গ্লোবাল কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব বাংলাদেশে কতটা পড়বে তা-ই প্রশ্ন।
কয়েকদিন আগেই বিএটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে ৬০ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা) ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। নতুন পরিকল্পনার ফলে মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
তবে বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এমনিতেই গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে কর্মী কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ও কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য কয়েক দশকের মধ্যে এ বছরই লোকসান হয়েছে রেকর্ড পরিমান। এখন নতুন কর্মী ছাঁটাইয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বর্তমান কর্মীদের অনেকেই। যদিও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো’র বাংলাদেশ উয়িংএর পক্ষ থেকে কেউ মন্তব্য করতে নারাজ কিন্তু অভ্যন্তরীন শঙ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে অনেকেই কথাতেই। এ বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগও কোন মন্তব্য করতে চায়নি।
বিশ্ববাজারে প্রচলিত সিগারেটের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিএটিসহ বড় তামাক কোম্পানিগুলো এখন ভেপ ও অন্যান্য ধূমপানবিকল্প পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তোলাই পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে গ্লোবাল কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ভিত্তিতে জানা যায় বিএটির প্রধান নির্বাহী টাদেউ মারোকো বলেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি জানান, পুনর্গঠনের ফলে অনেক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমের কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশটিতে বিএটির কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেনল্ডস আমেরিকান।
ঘোষণার পর লন্ডন শেয়ারবাজারে বিএটির শেয়ারের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে এফটিএসই ১০০ সূচকও ০ দশমিক ২ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এজে বেলের ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর রাস মোল্ড বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কার্যক্রম আরও দক্ষ করা এবং দ্রুত নতুন পণ্য বাজারে আনার লক্ষ্যে বিএটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এত বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য উদ্বেগের বার্তা বহন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কর্মী ছাঁটাই এর প্রভাব বাংলাদেশে কতটুকু পড়বে প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে সরাসরি বড় আকারের চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা সীমিত হলেও, প্রতিষ্ঠানের মিড-লেভেল ও ব্যাক-অফিস পরিচালনায় পুনর্বিন্যাসের প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রভাবে দেশের উৎপাদনশীল তামাক ক্রয়ের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, যা দেশে বিএটির সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত লক্ষাধিক তামাকচাষি ও স্থানীয় সাপ্লাই চেইনে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমাদের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরোক্ষ কর ও ভ্যাট আহরণেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিএটিএ বাংলাদেশ যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাই তামাক চাষের সাথে জড়িত চাষিদের বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সহায়তা করা এবং কর্মী ছাঁটাই ঝুঁকি কমাতে বিদ্যমান কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সফট স্কিলস ও আধুনকি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়াও, ঢাকা চেম্বার মনে করছে, এনবিআর কেও আমাদের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তামাকজাত পণ্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্থ হবে কিনা সে বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা এখনই নেয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রাজস্ব বিভাগের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েক দিন আগেও বাংলাদেশে কর্মী ছাঁটাই করেছে কোম্পানিটি। বিএটি যে আর্থিক চাপে আছে তা ওদের ট্যাক্স ফাইল দেখেই বুঝা যায়। তবে এখনও বর্তমান অর্থ বছরের রিপোর্ট আসেনি, সুতরাং এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বিএটি বাংলাদেশ অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই।
Posted ০৩:২৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com