নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ১১৩ বার পঠিত
দেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও টেকসই করতে শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
৩০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। “ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক এই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান-সদস্য এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
সভায় গভর্নর বলেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত সম্পদ-ভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা, যেখানে বাস্তব অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্পর্ক থাকে। কিন্তু বাস্তবে সেই কাঠামো সঠিকভাবে অনুসরণ না হওয়ায় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে কার্যকরভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমেই ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তারা সুদমুক্ত, ঝুঁকি ভাগাভাগির ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, শরিয়াহ অডিট ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়।
শরিয়াহ বোর্ডকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি অধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বড় বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও উঠে আসে। এছাড়া শরিয়াহ সুপারভাইজারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং তদারকির জন্য আলাদা ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়।
আলোচনায় আরও বলা হয়, বর্তমানে সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি আধুনিক গবেষণা ও লাইব্রেরি কেন্দ্র গড়ে তুলে বাংলাদেশকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে কার্যকর শরিয়াহ অডিট, কমপ্লায়েন্স ও গবেষণা বিভাগ গড়ে তোলা, বছরে অন্তত একবার বাহ্যিক শরিয়াহ নিরীক্ষা চালু করা এবং পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া জনসাধারণের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে বিভাগ খোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা অর্থপাচার ও বড় ধরনের দুর্নীতিকে কঠোরভাবে দমন করার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজন হলে এগুলোকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
সবশেষে গভর্নর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Posted ০৭:১১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com