নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 157 বার পঠিত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ও পরবর্তীপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্থাপিত বীমা দাবিগুলোকে এককভাবে ‘পপুলার রাইজিং’ বা গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
প্রতিটি বীমা দাবির ক্ষেত্রে বীমা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সার্ভেয়ার নিয়োগ করে সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সকল নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে।
আইডিআরএ’র উপপরিচালক মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত ৪ জানুয়ারি জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক স্টেকহোল্ডার সভায় ‘পপুলার রাইজিং’ দেখিয়ে বীমা ও পুনঃবীমা দাবি নাকচ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—
১) সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) ৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে।
২) সকল নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতিটি বীমা দাবির ক্ষেত্রে পৃথকভাবে সার্ভেয়ার নিয়োগ দেবে এবং সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে গত বছরের ৩ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনে দেশের সব বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা প্রতিনিধিদের এবং জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই-আগস্টে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বীমা দাবিগুলোকে ‘পপুলার রাইজিং’, ‘সিভিল কমোশন’ ও ‘সন্ত্রাসজনিত ক্ষতি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে এসব ক্ষতি বীমা দাবির আওতাভুক্ত নয় বলে জানানো হয়। বিদেশি পুনঃবীমাকারীদের অবস্থানের কথাও সভায় উল্লেখ করা হয়।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের ওই সিদ্ধান্তকে ত্রুটিপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিটিএমএসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন প্রতিবাদ জানায় এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তোলে। এরই প্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সভা ডাকে আইডিআরএ।
তবে আইডিআরএ’র সর্বশেষ নির্দেশনার পরও সাধারণ বীমা করপোরেশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
এসবিসির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে করপোরেশনের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আইডিআরএ’র নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হবে এবং বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠিতব্য সভাতেও এসবিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হতে পারে।
এদিকে আইডিআরএ’র এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বীমা দাবি নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে এবং উদ্যোক্তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার পতনের আন্দোলনের চূড়ান্ত ও পরবর্তীপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক এলাকায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং উদ্যোক্তারা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধের মাধ্যমে অগ্নি ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিপরীতে বীমা পলিসি গ্রহণ করেছিল।
তবে সাধারণ বীমা করপোরেশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে জটিলতা ও বিলম্ব তৈরি হয় বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের। আইডিআরএ’র সর্বশেষ নির্দেশনা সেই অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ৯:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy