নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট ২৬ বার পঠিত
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন প্রয়োজন হবে বলে সরকারের এক নতুন মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
রোববার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এ মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্টের (ডিএফএ) ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এটি একটি বৈশ্বিক কাঠামো, যার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক প্রবাহের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হালনাগাদ এসডিজি অর্থায়ন কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়, যা কর্মশালার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি হবে। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ২০৩০ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগে অবশিষ্ট বছরগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।
তিনি বলেন, “অর্থায়নের ঘাটতি অনেক বড়, হাতে সময় খুবই সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তবুও আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।”
তিনি আরও বলেন, এসডিজি অর্জনের জন্য জাতীয় অগ্রাধিকার সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন কর্মসূচির দক্ষ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোরে-স্মেরেজনিয়াক বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নিজস্ব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ কমে আসছে। তবে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগও তৈরি করেছে। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করে দেশীয় অর্থায়ন বাড়ানো সম্ভব।”
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এএইচএম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে বলেন, ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলায় শক্তিশালী অর্থনৈতিক সুশাসন এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “সরকার কৌশলগতভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত ও ঝুঁকিমুক্ত করতে পারে। অর্থায়নের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা, কার্যকর নীতি এবং দৃঢ় অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।”
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) অর্থায়িত ইউএনডিপির ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য কৌশল ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
Posted ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com