|

Advertisement
×
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএর কার্যকর পদক্ষেপ চান অংশীজনরা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আটকে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর এফডিআরের বড় অংকের অর্থ

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৪২ বার পঠিত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আটকে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর এফডিআরের বড় অংকের অর্থ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে আটকে আছে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) । ব্যাংকটির তারল্যসংকট ও আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে এসব এফডিআর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিষয়টি জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পলিসিধারীদের মেয়াদপূর্তি, মৃত্যু দাবি, সারভাইভাল বেনিফিটসহ বিভিন্ন বৈধ দাবি পরিশোধে কোম্পানিগুলোর নিয়মিত নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। ব্যাংকে রাখা এফডিআর থেকে সময়মতো অর্থ পাওয়া না গেলে নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি বীমা খাতে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরই মধ্যে কয়েকটি জীবন বীমা কোম্পানির পলিসিধারীদের বকেয়া দাবি পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন সময়ে কোনো জীবন বীমা কোম্পানির বড় অঙ্কের আমানত ব্যাংকে আটকে থাকলে দাবি পরিশোধের সক্ষমতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে যেসব কোম্পানির মোট বিনিয়োগের তুলনায় ব্যাংক এফডিআরের অংশ বেশি এবং একই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বীমা দাবি পরিশোধের চাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তারল্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে আগে রাখা বিভিন্ন আমানত ও এফডিআর নতুন রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় এসেছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা এফডিআর জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আয়েও ভূমিকা রাখে। ফলে কোনো ব্যাংকে বড় অঙ্কের এফডিআর আটকে গেলে বিষয়টি শুধু বিনিয়োগের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে কোম্পানির তারল্য ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ আয় এবং পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধের সক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন ব্যবস্থার আওতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনায় এফডিআরধারীদের মূল অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত এলেও, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

জীবন বীমা খাতের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, কোনো কোনো কোম্পানির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা, আবার কোনো কোম্পানির ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি এফডিআর থাকতে পারে। তবে কোম্পানিভিত্তিক এফডিআরের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থ ফেরত পেতে বিলম্বের পাশাপাশি এফডিআরের মুনাফা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে একদিকে বিনিয়োগ আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় নগদ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হচ্ছে।

দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ চান বীমা খাতের নেতারা:

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী বলেন, যথাসময়ে বীমা দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আটকে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। দ্রুত অর্থ পাওয়ার জন্য আইডিআরএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ ( পাভেল ) বলেন, “বীমা আইনের প্রবিধান মেনেই প্রায় সকল লাইফ বীমা কোম্পানি পলিসিহোল্ডারদের অর্থ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ( মার্জকৃত ৫ টি ব্যাংক ) ও অবসায়নকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর করে রেখেছে। এছাড়া ইসলামী বীমা পণ্যসমূহ থাকায় শরীয়াহ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকসমূহে অর্থ জমা রাখতে হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই অর্থ নগদায়ন করা যাচ্ছে না, এমনকি মুনাফা/সুদ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বীমা দাবি পরিশোধের স্বার্থে আইডিআরএ , বিআইএ ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথ সভা করে দ্রুত সমস্যা নিরসন করা জরুরি। এক্ষেত্রে লাইফ বীমা কোম্পানি ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সমানভাবে দেখা কোনভাবেই সঠিক হবে না।”

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য যে রেজল্যুশন কাঠামো কার্যকর করেছে, তার আওতায় আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমানত উত্তোলনের সীমাও পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছে।

তবে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এসব প্রতিষ্ঠানের আমানত সাধারণ আমানতকারীর অর্থের মতো নয়; পলিসিধারীদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের সঙ্গে এসব তহবিলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এ কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর এফডিআর কত টাকা রয়েছে, এর মধ্যে কত টাকা বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য, কত টাকা মেয়াদপূর্তির অপেক্ষায় এবং মুনাফা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধান প্রযোজ্য-এসব বিষয়ে একটি সমন্বিত চিত্র প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বীমা কোম্পানিগুলোর পলিসিধারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আইডিআরএ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।

বীমা খাতে যখন দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সক্রিয় হয়েছে, তখন ব্যাংকে আটকে থাকা বীমা কোম্পানির এফডিআর দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী করা বা অর্থ উদ্ধারে কার্যকর সমন্বয় করা গেলে কোম্পানিগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Posted ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com