অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৪ বার পঠিত
বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার (WIPO) গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স (GII) ২০২৬-এ টানা ১৬তম বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ড। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন এবং তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া চতুর্থ ও সিঙ্গাপুর পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
২০২৬ সালের সূচকে মোট ১৩৯টি অর্থনীতিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তালিকার সবচেয়ে নিচের পাঁচটি অবস্থানে রয়েছে বুরুন্ডি, অ্যাঙ্গোলা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, নাইজার ও চাদ।
WIPO-এর সূচকে কোনো দেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতা পরিমাপে গবেষণা ও উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনের বিভিন্ন ইনপুট ও আউটপুট বিবেচনা করা হয়।
সুইজারল্যান্ড: টানা ১৬ বছর শীর্ষস্থান ধরে রাখা সুইজারল্যান্ড উদ্ভাবন ইনপুটে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং উদ্ভাবন আউটপুটে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
সুইডেন: দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেন উদ্ভাবনের ইনপুট ও আউটপুট—উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সুইডেনও উচ্চমাত্রার উদ্ভাবন ইনপুট ও আউটপুটের সমন্বয় করা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। গবেষণা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিসহ উদ্ভাবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: চতুর্থ স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্যবসায় কর্মরত গবেষক এবং উদ্ভাবকের দেশভিত্তিক পিসিটি পেটেন্টের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শক্তি দেখিয়েছে। সামগ্রিক গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয়।
সিঙ্গাপুর: পঞ্চম অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর উদ্ভাবন ইনপুটের সামগ্রিক সূচকে সবচেয়ে ভালো করেছে। এ উপসূচকে দেশটির অবস্থান বিশ্বে প্রথম।
বুরুন্ডি: ১৩৫তম অবস্থানে থাকা বুরুন্ডি সাব-সাহারান আফ্রিকার ৩১টি অর্থনীতির মধ্যে ২৭তম। দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে দেখেছে WIPO। তরুণ জনসংখ্যার কাঠামোর দিক থেকে বিশ্বে বুরুন্ডির অবস্থান পঞ্চম।
অ্যাঙ্গোলা: বৈশ্বিকভাবে ১৩৬তম এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় ২৮তম অবস্থানে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা। মোট মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বে ১৩তম, যা সম্ভাবনাময় শক্তির একটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে WIPO।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো: দেশটি ১৩৭তম এবং আফ্রিকা অঞ্চলে ২৯তম অবস্থানে রয়েছে। WIPO জানিয়েছে, উদ্ভাবন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উন্নতির ফলে দেশটিকে ২০২৬ সালের সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর দিক থেকে দেশটির অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ।
নাইজার: ১৩৮তম অবস্থানে থাকা নাইজার সাব-সাহারান আফ্রিকার ৩০তম অর্থনীতি। সামগ্রিক অবস্থান পিছিয়ে থাকলেও দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে দেখছে WIPO। তরুণ জনসংখ্যার কাঠামোর দিক থেকে নাইজার বিশ্বে প্রথম।
চাদ: ১৩৯টি অর্থনীতির মধ্যে ১৩৯তম অবস্থানে রয়েছে চাদ। সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যেও এটি ৩১তম। উন্নত তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার কারণে ২০২৬ সালের সূচকে চাদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোট মূলধন গঠনের ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান বিশ্বে ৩০তম।
WIPO-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শীর্ষ ও সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা অর্থনীতিগুলোর ব্যবধান শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পার্থক্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সূচকে উদ্ভাবনের বিভিন্ন ইনপুট ও আউটপুটের পাশাপাশি শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং মেধাস্বত্বের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের উদ্ভাবন কার্যক্রম এখনো মূলত শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিগুলোতেই বেশি কেন্দ্রীভূত। তবে উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং মেধাস্বত্বের মতো ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে WIPO।
২০২৬ সালের GII-এর অধিকাংশ তথ্য ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংগৃহীত। সূচকের ৮০ শতাংশের বেশি তথ্য এই সময়ের। WIPO সতর্ক করে বলেছে, বছরের সঙ্গে বছরের র্যাঙ্কিং তুলনা করার সময় সূচকের পদ্ধতিগত পরিবর্তন এবং তথ্যের প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
Posted ১২:৩২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com