অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৮ বার পঠিত
চার বিভাগে ১২টি উদ্যোগকে পুরস্কার, গুরুত্ব পাবে শ্রমিক কল্যাণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর জন্য আবেদন ও মনোনয়ন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য BATEXPO ২০২৬-এর রজতজয়ন্তী আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। এবারের আয়োজনে শিরোনাম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে পিডিএস লিমিটেড। আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক পোশাকশিল্প প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত BATEXPO-তে টিএসএল অ্যাওয়ার্ডকে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে। বিজিএমইএ জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের স্টাইল-২ (Stile II) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ পুরস্কারের আয়োজন করছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
গত এক দশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, কমপ্লায়েন্স জোরদার এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে শিল্পখাতটির অগ্রগতি তুলে ধরাই এ পুরস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এর মাধ্যমে শ্রমিক কল্যাণ, পরিবেশগত নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে অনুসরণযোগ্য টেকসই চর্চাগুলোকে আরও দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, বৈশ্বিক পোশাকবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো, পুনর্ব্যবহার, সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতির চর্চা এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠা এখন অপরিহার্য।
এ ধরনের উদ্যোগের প্রসার ঘটলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও পরিবেশসচেতন পোশাক সংগ্রহের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টিএসএল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ চারটি বিভাগে মোট ১২টি উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে। বিভাগগুলো হলো—
১. পিপল ফার্স্ট (People First): শ্রমিক কল্যাণ, আদর্শ কারখানা, নেতৃত্বে নারী এবং কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন—এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ বিভাগে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
২. প্ল্যানেট পজিটিভ (Planet Positive): সাসটেইনেবিলিটি লিডার অব দ্য ইয়ার, ওয়াটার গার্ডিয়ান এবং সার্কুলার টেক্সটাইল পাইওনিয়ার—এই তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে।
৩. নেক্সট ফ্রন্টিয়ার (Next Frontier): বিজনেস ইনোভেটর অব দ্য ইয়ার, ফিউচার-রেডি অ্যাওয়ার্ড এবং ওয়ার্কার-সেন্ট্রিক ইনোভেশন—এই তিনটি উদ্যোগ এ বিভাগের আওতায় থাকবে।
৪. রাইজিং স্ট্রেংথ (Rising Strength): ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্মল ফ্যাক্টরি বিগ ইমপ্যাক্ট, রিসোর্সফুল ইনোভেশন এবং গ্রোয়িং রেসপনসিবলি অ্যাওয়ার্ড—এই তিনটি ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বিজয়ীদের প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার—এই তিন স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
তিনি বলেন, সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও কারখানাগুলোর অবদান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এতে শিল্পখাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
জিআইজেড বাংলাদেশের ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ’ প্রকল্পের (স্টাইল/স্টাইল-২) প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মাইকেল ক্লোড বলেন, বিজিএমইএর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে BATEXPO-তে টিএসএল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ সহযোগিতা করতে পেরে জিআইজেড আনন্দিত।
তিনি জানান, ২০১২ ও ২০১৪ সালে সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২২ সালে টিএসএল অ্যাওয়ার্ড আয়োজনে সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এবারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) চর্চায় নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দেবে এ পুরস্কার।
ড. ক্লোড আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে শিল্পখাতে টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির বিস্তার ঘটবে এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্প আরও দায়িত্বশীল, প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “টেকসই উন্নয়ন আমাদের জন্য বিলাসিতা কিংবা অন্যের কাছ থেকে ধার করা কোনো প্রবণতা নয়; এটি আমাদের টিকে থাকার শর্ত।”
তিনি বলেন, লাখো শ্রমিকের পরিশ্রমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অর্থনীতির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। এ শিল্পে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিকের অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুজনিত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই শিল্পখাতটি এগিয়ে চলেছে।
শরিফুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশের সময় টিএসএল অ্যাওয়ার্ড সেই দূরদর্শী কারখানাগুলোকে সম্মানিত করবে, যারা মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতাকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচিতিকে কেবল একটি পণ্যের লেবেল থেকে বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির প্রতীকে রূপান্তরিত করছে।
BATEXPO ২০২৬-এ সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন বা মনোনয়ন দিতে আগ্রহী কারখানাগুলোকে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। তবে প্রকাশিত তথ্যের শেষাংশে আবেদনসংক্রান্ত ওয়েবসাইট বা যোগাযোগের নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ নেই।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং জমাদানের শেষ সময় সম্পর্কে বিজিএমইএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Posted ১২:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com