অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২২ বার পঠিত
আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই অর্থবছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। তবে ২০২৯ অর্থবছরে ভারত আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে দুই দেশের ব্যবধান আরও বাড়বে।
মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই অগ্রগামিতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ অর্থবছরে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে আবারও এগিয়ে যাবে ভারত।
মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) ডেটাবেইস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার ব্যবধান মাত্র ১৩৬ ডলার।
অর্থনীতির মোট আকারে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ছোট হলেও মাথাপিছু জিডিপিতে আগামী দুই অর্থবছরও এগিয়ে থাকতে পারে দেশটি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকতে পারে।
তবে ২০২৯ অর্থবছরে চিত্র পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৩ হাজার ৬৬২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৩৩৪ ডলারে।
এই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে ৪ হাজার ৩৮৯ ডলার হতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক হতে পারে ৩ হাজার ৬৮০ ডলার। ফলে দুই দেশের ব্যবধান দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০৯ ডলারে।
এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৫ সালে ভারত আবারও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়।
মাথাপিছু জিডিপি হিসাব করা হয় একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। এটি অর্থনীতির আকারের তুলনায় জনপ্রতি উৎপাদনের একটি ধারণা দেয়। তবে এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আয় কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা—তা সরাসরি বোঝা যায় না।
মাথাপিছু জিডিপির হিসাব পদ্ধতি পরিবর্তন করলে দুই দেশের অবস্থানের চিত্রও বদলে যায়।
ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) অনুযায়ী, ভারত বাংলাদেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই পদ্ধতিতে দুই দেশের পণ্য ও সেবার দামের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া হয়, ফলে অর্থ দিয়ে বাস্তবে কতটা পণ্য ও সেবা কেনা যায়, তার তুলনামূলক ধারণা পাওয়া যায়।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের অবস্থান হতে পারে ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার। অর্থাৎ, এ হিসাবে ভারতের এগিয়ে থাকার ব্যবধান প্রায় ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
১৯৯৪ সাল থেকে পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই ব্যবধান বজায় থাকার পাশাপাশি তা বেড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের কাছে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান বাজারদরে ডলারে হিসাব করা মাথাপিছু জিডিপি এবং ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া মাথাপিছু জিডিপি এক বিষয় নয়। প্রথম সূচকে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় সূচকে ভারতের বড় ব্যবধান রয়েছে।
মাথাপিছু জিডিপির পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পারে ভারত। দেশটির মোট জিডিপি ২০২৬ অর্থবছরের ৪ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ২০৩১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে মন্থর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরে তা কিছুটা বেড়ে ২০৩১ অর্থবছরে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।
আইএমএফের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপি হতে পারে ৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০৩১ অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৭৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে আরও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।
এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু জিডিপিতে শীর্ষে থাকবে মালদ্বীপ। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১৯ হাজার ৫০৭ ডলার।
এরপর রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যার মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার ৬২ ডলার হতে পারে। ভুটানের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ৪ হাজার ৯৩৩ ডলার।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১ হাজার ৮৩৬ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালের অবস্থান থাকবে সবার নিচে, দেশটির মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ১ হাজার ৫৪০ ডলার।
সব মিলিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসে স্পষ্ট, মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের সাময়িক অগ্রগামিতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকার সম্ভাবনা কম। ভারতের তুলনামূলক দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা-সমন্বিত মাথাপিছু জিডিপিতে বড় ব্যবধান দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করতে পারে।
তবে মাথাপিছু জিডিপির পরিসংখ্যানই মানুষের প্রকৃত জীবনমানের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোও নির্ধারণ করে একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে।
Posted ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন